বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন
বশির আহমেদ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:: সেনাজোন সূত্র জানায়, সহায়তার অর্থে শিগগিরই নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে শুধু মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, ফিরে আসবে পরিবারটির স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত কুলসুমা বেগম বলেন, আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। বান্দরবান সেনাজোন আমার জীবনে আলোর মতো এসেছে। এই সহায়তা আমি কখনো ভুলব না।
স্থানীয়রা বলছেন, দেশের সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি মানবিক বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনী দায়িত্বশীলতার অনন্য নজির রাখছে। কুলসুমা বেগমকে সহায়তার ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বান্দরবান সেনাজোনের এই উদ্যোগ শুধু একটি অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসনের সুযোগই তৈরি করেনি, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার শক্তিশালী বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার বান্দরবন পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকার এক অসহায় বিধবা নারী কুলসুমা বেগম এর জীবনে মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বান্দরবান সেনাজোন। দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করা এই নারী ভগ্নপ্রায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তার জীবনে ছিল না কোনো নির্ভরতার স্থান, ছিল না সহায়তার মতো কোনো মানুষ চারপাশে শুধুই অসহায়ত্ব আর বঞ্চনার গল্প। ঝড়-বৃষ্টি এলেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটত তার। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও যখন নিরাপদ নয়, তখন প্রতিটি রাত তার কাছে ছিল আতঙ্কের। জীবনের এই কঠিন বাস্তবতায় তিনি হয়ে পড়েন সম্পূর্ণ অসহায়—যেখানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কেউ ছিল না।
ঠিক এমন সময় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এগিয়ে আসে বান্দরবান সেনাজোন। বান্দরবান সেনাজোনের সম্মানিত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হুমায়ুন রশীদ, পিএসসি-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেনাজোনের জোন কমান্ডার মহোদয়ের আন্তরিক তত্ত্বাবধান ও মানবিক নেতৃত্বে অসহায় বিধবা এই নারীর জন্য ঘর নির্মাণ বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা তার জীবনে এক নতুন আশার দ্বার উন্মোচন করে।