রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
লায়ন আলহাজ মো. নূরে আলম জিতু সরদার, চেয়ারম্যান, একুশের কণ্ঠ ঃ একটি বৃক্ষ যেমন একদিনে মহীরুহ হয়ে ওঠে না, তেমনি একটি সংবাদপত্রও একদিনে মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠে না। এর পেছনে থাকে বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম, অগণিত মানুষের ত্যাগ, অসংখ্য নির্ঘুম রাত, অজস্র ব্যর্থতার বেদনা এবং সত্যকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার এক অদম্য সাহস।
আজ একুশের কণ্ঠ গৌরবের সঙ্গে ১৫ বছর অতিক্রম করে ১৬ বছরে পদার্পণ করেছে। এই অর্জন কোনো একজন ব্যক্তির নয়, কোনো একটি পদ বা পরিচয়ের নয়; এটি আমাদের সমগ্র পরিবারের সম্মিলিত অর্জন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সফলতার পেছনে যেমন অসংখ্য মানুষের শ্রম রয়েছে, তেমনি প্রতিটি ব্যর্থতাও আমরা দলগত ভাবে গ্রহণ করেছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কখনো একজনের নয়। এই দীর্ঘ পথচলায় আমরা সাফল্যের আনন্দ যেমন দেখেছি, তেমনি ব্যর্থতার তীব্র যন্ত্রণাও অনুভব করেছি। কখনো অর্থনৈতিক সংকট, কখনো প্রতিকূল বাস্তবতা, কখনো প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, আবার কখনো সময়ের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমাদের থামিয়ে দিতে পারেনি কোনো বাধা। কারণ আমাদের শক্তি ছিল মানুষের আস্থা, সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং একটি স্বপ্ন দেশের কথা বলার স্বপ্ন।
আমি গভীর প্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি আমাদের সম্পাদকীয় নেতৃত্বকে। একজন সম্পাদক প্রতিদিন নিজের বিবেকের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। তিনি কেবল সংবাদ প্রকাশ করেন না; তিনি মানুষের আশা, বেদনা, প্রতিবাদ ও প্রত্যাশার ভাষা নির্মাণ করেন। সেই কঠিন পথচলায় তাঁর পাশে থেকেছেন আমাদের নিবেদিত প্রাণ সহকর্মীরা। তবে আমরা কখনো দাবি করি না যে আমাদের পথচলা ছিল ভুলহীন। আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল, অপূর্ণতা ছিল, এমন অনেক স্বপ্ন ছিল যা সময় মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু প্রতিটি সীমাবদ্ধতা আমাদের নতুন শিক্ষা দিয়েছে, প্রতিটি ব্যর্থতা আমাদের আরও দৃঢ় করেছে এবং প্রতিটি সমালোচনা আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে শিখিয়েছে। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, সফলতা মানুষকে পরিচিত করে, কিন্তু ব্যর্থতা মানুষকে পরিণত করে। আর যে প্রতিষ্ঠান নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে জানে, সেই প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘ পথচলায় মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিতে পারে।
আজ এই শুভক্ষণে আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি আমাদের সম্পাদক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা, সহ-সম্পাদকবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, আলোকচিত্রী, কলামিস্ট, ডিজাইনার, মুদ্রণকর্মী, পরিবেশক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একুশের কণ্ঠ পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে। তাঁদের নিষ্ঠা, সততা ও পরিশ্রম ছাড়া এই ষোলো বছরের ইতিহাস কখনো রচিত হতো না। একই সঙ্গে আমি আমাদের সম্মানিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী, লেখক, কলামিস্ট, শুভাকাঙ্খী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল বন্ধুদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহযোগিতাই আমাদের এগিয়ে চলার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
আসুন, আমরা নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাই। সত্যের প্রতি অঙ্গীকার, ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানুষের পাশে থাকার শপথ নিয়ে আমরা আগামী দিনের আরও শক্তিশালী, আরও আধুনিক এবং আরও নির্ভরযোগ্য একুশের কণ্ঠ গড়ে তুলি। ১৬ বছরের গৌরবময় যাত্রা আমাদের অহংকার নয়, আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।