শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

ইসরায়েলের ১৩ বন্দিসহ আরও ১৭ জনকে মুক্তি দিলো হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ অনলাইন:: ইসরায়েলের ১৩ বন্দিসহ আরও ১৭ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। মুক্তি পাওয়া অন্য চার বন্দি থাইল্যান্ডের নাগরিক। চার দিনের চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় দ্বিতীয় দিনে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। যদিও দ্বিতীয় দফায় এই মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে বেশ কয়েক ঘণ্টার বিলম্বের পর ওই ১৭ জনকে মুক্তি দেয় হামাস।

রোববার (২৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস ১৩ ইসরায়েলি বন্দি এবং চারজন থাই নাগরিককে সাত ঘণ্টা বিলম্বের পরে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রসের (আইসিআরসি) কাছে হস্তান্তর করেছে। ইসরায়েল চলমান যুদ্ধবিরতির একটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে হামাস অভিযোগ তোলার পর বন্দি মুক্তিতে ওই বিলম্ব হয়।

তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে চলমান বিরতির এই বৈরিতা শনিবার কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় সমাধান করা হয়। ইসরায়েল এখন তার কারাগার থেকে ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ১৩ ইসরায়েলি এবং চার বিদেশি নাগরিককে আইসিআরসি-তে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইসরায়েলে যাওয়ার আগে তারা দক্ষিণ গাজা ও মিশরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্তের দিকে যাচ্ছেন।

পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ১৭ জন বন্দি ইসরায়েলে পৌঁছেছে। তারা বলেছে, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা মূল্যায়নের পর তারা আইডিএফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) সৈন্যদের সাথে থাকবে এবং পরে তাদের ইসরায়েলি হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে তারা তাদের পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত হবে।’

আল জাজিরার হামদাহ সালহুত অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম থেকে বলেছেন, সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া এই ১৭ জনকে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের অতিরিক্ত চিকিৎসা ও মানসিক পরীক্ষার জন্য তেল আবিব এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলি বন্দিদের মধ্যে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং সাতজন শিশু ও কিশোর রয়েছে। ৫০ দিন বন্দি থাকার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও এতে বলা হয়েছে।

এর আগে শনিবার ১৪ ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের। তবে মুক্তির বিষয়টি একপর্যায়ে হুমকির মুখে পড়ে যায়। কারণ হামাসের শর্ত ছিল, গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে না দেবে— ততক্ষণ পর্যন্ত বন্দিদের মুক্তি দেবে না তারা।

গত শুক্রবার ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের চারদিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। বিরতির প্রথমদিন তারা ১৩ ইসরায়েলিসহ ২৪ বন্দিকে মুক্তি দেয়। শনিবার আরও ১৪ জনকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল তাদের। তবে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসেম বিগ্রেডস শনিবার নতুন ঘোষণায় জানায়, বন্দিদের ফিরিয়ে নিতে হলে গাজার উত্তরাঞ্চলেও ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দিতে হবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তি হয়েছিল প্রতিদিন গাজায় ২০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। সেই শর্ত মেনে শনিবার ২০০টি ট্রাক প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলেও পাঠানো হয়েছে ৫০টি ত্রাণবাহী ট্রাক।

তবে হামাস দাবি করেছে, ইসরায়েল সেই শর্ত মানেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com