মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে নাবাতিয়ের যেব্দিন এলাকায় জিবদিন গ্রামের একটি আবাসস্থলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের সঙ্গে এক সিরীয় নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. আবদুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম। তারা দক্ষিণ লেবাননের ওই এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সংবাদদাতারা জানান, জিবদিন গ্রামের একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার সময় নিহতরা বাড়ির ভেতরে অথবা আশপাশে কাজ করছিলেন। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
একই দিনে জিবদিন গ্রামে এটি ছিল ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বিতীয় হামলা। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি শ্রমিকরাও হতাহতের শিকার হচ্ছেন।
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে নাবাতিয়ের নাবিহ বেররি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগম নিহত হন। লেবাননের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলার জবাবে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তারা আজও ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা এটি অমান্য করে দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে থাকে। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদেরও টার্গেট করে তারা।