মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ইরানের ওপর নতুন করে দফায় দফায় শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোব বার (১৯ জুলাই) রাতে নতুন এই হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ‘ভয়াবহভাবে’ আঘাতপ্রাপ্ত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন আর তেহরানের নিয়ন্ত্রণে নেই। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করে জানিয়েছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালাতে ইরান এই সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করছিল।
সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সেন্টকম আজ রবিবার পূর্বঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে টানা নবম রাতের মতো নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে। এই হামলা অব্যাহত থাকবে।
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সামরিক দিক থেকে তারা প্রায় সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে, ইরানের হাতে কিছুই নেই।” তিনি আরো বলেন, “আমরা এখন যা করছি তা হলো- ইরানের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যেকোনো সম্ভাবনা চিরতরে শেষ করে দিচ্ছি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, মার্কিন হামলার পর দেশটির মাহশাহর ও ইমাম খোমেনি বন্দর এবং তাবরিজ শহরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ ইরানের কোনারাক এলাকায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড সেন্টারে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটি তাদের বৈধ জবাব এবং হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে।
মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইরান।কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দেশের আকাশে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ এলাকায় অন্তত তিনটি রহস্যজনক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে, তবে এর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এক্স-এ পৃথক একটি পোস্টে জানিয়েছে, গত ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরানি হামলায় নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন সেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, উত্তর ইরাকে ভূপাতিত হওয়া একটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে আরো এক মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।
সেন্টকম আরো উল্লেখ করেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করা অব্যাহত রেখেছে। পূর্ণ বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সেন্টকম ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ পরিবর্তন করে দিয়েছে ও ১টি জাহাজকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করেছে।
ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য হামলা এবং মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।