শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন

অনলাইনে জুয়ার প্রতিবাদে হামলার শিকার শিক্ষকের মৃত্যু, ঘরবাড়ি অগ্নিসংযোগ

‎‎জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। ‎​লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

‎ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে টানা ২০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মরদেহ আসার অপেক্ষায় স্বজন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আদিতমারীর দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামে ভিড় করেন। পুরো এলাকায় কান্নার রোল ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়নি।
‎​
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়াবিরোধী সচেতনতামূলক আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এলাকায় চিহ্নিত জুয়াড়ি চক্রের মূলহোতা রহিদুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের জুয়া ও সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের তাগিদ দেন এবং না শুনলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করার হুশিয়ারি দেন তিনি।
‎​
এরই জেরে গত ১ আগস্ট বিকেলে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিজ বাড়ির কাছেই অনলাইন জুয়াড়ি রহিদুলের নেতৃত্বে অন্যান্য জুয়াড়িরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষক আরিফুলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তাঁর মৃত্যু হয়।


‎‎ঘটনার পর গত ২ আগস্ট নিহতের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা মামলার ১ নম্বর আসামি রহিদুল ইসলামকে গত ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার নয়াতলা এলাকা থেকে র‌্যাব-১৩ গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদিতমারী থানা পুলিশের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠায়।
‎​
শিক্ষক আরিফুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কারারুদ্ধ আসামি রহিদুলসহ হামলায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
‎​
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর তাঁদের কাছে এসেছে। মামলার ১ নম্বর আসামি ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছে। মৃত্যুর পর এলাকার উত্তেজিত জনতা আসামিদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন, তবে পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে এবং পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com