মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
তেহরান-ওয়াশিংটন: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা বাজছে। এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যেকার বিরোধ এখন চরমে, যা দেশ দুটির মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন এই জলপথে সরাসরি হস্তক্ষেপ বাড়াতে মরিয়া, ইরান তখন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে- হরমুজে যেকোনো মার্কিন উস্কানির জবাব দেওয়া হবে চরম শক্তিতে।
ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আমেরিকাকে সতর্ক করেছেন। ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকার যেকোনো ধরণের হস্তক্ষেপ ইরানের পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য হরমুজ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ দিনের যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এই সংঘাতে নামলে আমেরিকার ক্ষতির পরিমাণ ইরানের তুলনায় অনেক বেশি হবে। তারা সব সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করবে।”
আমেরিকার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ও বর্তমান বাস্তবতা
এদিকে আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক একটি অভিযান শুরু করেছে। এর মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সফলভাবে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করে দিয়েছে। তবে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য বলছে ভিন্ন কথা- বাস্তবে হরমুজ প্রণালি এখনো স্থবির হয়ে আছে।
মানবিক সংকট ও নৌ-অবরোধ
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, হরমুজে আটকে থাকা জাহাজগুলো বিশ্বের ৮৭টি দেশের। এই সংঘাতের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, সংকটের মুখে তারা ৫০টি জাহাজের পথ পরিবর্তন করে দিয়েছে যাতে সেগুলো আমেরিকার আরোপ করা নৌ-অবরোধ মেনে চলে। এর অর্থ হলো, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ এখনো কঠোরভাবে বহাল রয়েছে।
শেষ কথা
তেহরান পাল্টা দাবিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ চাবিকাঠি এখনো তাদের হাতেই। ইরানের অনুমতি ছাড়া এই পথ পাড়ি দেওয়া অসম্ভব। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই শক্তির এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সামান্য একটি ভুল পদক্ষেপই বদলে দিতে পারে এই অঞ্চলের মানচিত্র।