মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
দেশের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। অথচ এই শিল্পের কারিগর সাংবাদিকদের প্রাপ্তির খাতাটি তলানি ঠেকেছে। নিয়োগ নীতিমালা থেকে শুরু করে জীবনের নিরাপত্তা- সবখানেই যেন এক বিশাল ‘নাই’ এর রাজত্ব। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটাতে আগামী ৭ মে ঢাকায় ১৪ দফা দাবিতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।
প্রাপ্তির খাতায় শুধুই শূন্য
সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিতদের বর্তমান দুরবস্থা তুলে ধরে বিএমএসএফ-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এক বিবৃতিতে ২১টি মৌলিক অভাবের কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, বর্তমান সাংবাদিকতায়:
নীতিমালার অভাব: সাংবাদিকদের কোনো রাষ্ট্রীয় তালিকা নেই, নেই সুনির্দিষ্ট নিয়োগ নীতিমালা।
আর্থিক অনিশ্চয়তা: নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, বোনাস, ভাতা (যাতায়াত, চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়া) কিংবা পেনশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।
আইনি সুরক্ষা: নেই কোনো সাংবাদিক সুরক্ষা আইন। পেশাগত কারণে হতাহত হলে বিচারের নজিরও মেলা ভার।
রাষ্ট্রীয় অবহেলা: সরকারি ফর্মে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতার আলাদা উল্লেখ নেই। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়েও নেই এই পেশা সংক্রান্ত কোনো অধ্যায়। এমনকি মৃত্যুর পর জোটে না নূন্যতম রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক মর্যাদা।
সরঞ্জামে নেই প্রণোদনা: কৃষক, জেলে বা শিক্ষকদের জন্য সরকারি নানা সরঞ্জাম সহযোগিতা থাকলেও সাংবাদিকদের জন্য কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ক্যামেরা কিনতে কোনো সহায়তা দেওয়া হয় না।
ঝুঁকি যেখানে নিত্যসঙ্গী
বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, দায়বদ্ধতা থেকে যারা সাংবাদিকতা করেন, তাদের কপালে জোটে কেবল টেনশন আর নিরাপত্তাহীনতা। দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরলেই নেমে আসে হামলা, মামলা আর গ্রেফতারের খড়গ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সুরক্ষা পাওয়ার বদলে অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের চরিত্র হনন ও হয়রানির শিকার হতে হয়। আরও আক্ষেপের বিষয় হলো- সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়ে বাদী হলে পুলিশ আসামি খুঁজে পায় না, অথচ সাংবাদিকরা আসামি হওয়ার আগেই গ্রেফতার হয়ে যান।
৭ মে সমাবেশের ডাক
এতসব ‘নাই’ এর ভিড়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, “হিসাব মেলাতে আগামী ৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি আদায়ে সমাবেশে যোগ দিন।” যদিও এই বাস্তবতার সাথে কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, তবে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আজ এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আহমেদ আবু জাফর, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।