বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

রাত জেগে গোয়াল পাহার দিচ্ছে মধুপুর গ্রামবাসী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ব্যাপকহারে গরু চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৯ মাসে উপজেলার মধুপুর গ্রাম থেকে ১০ টি গরু চুরি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৮ লক্ষাধিক টাকা। আর হালের বলদ হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে প্রান্তিক চাষীরা। বর্তমানে ওই গ্রামে গরু চুরির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় একাধিক জিডি ও এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ আজ পর্যন্ত কোন গরু উদ্ধার বা চোরদের গ্রেফতার করতে পারেনি। গরু চুরির ভয়তে রাত জেগে গোয়াল পাহার দিচ্ছে মধুপুর গ্রামবাসী।
মধুপুর গ্রামের মৃত আকবার আলী মীরের ছেলে কৃষক মিজানুর রহমান মীর জানান, গত ২৪/০৪/২০১৮ ইং তারিখ দিবাগত রাতে তার গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে চোরেরা দুই টি দামড়া চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া গত বছর একই ভাবে তার আরো ২ টি গরু চুরি হয়। চুরির ঘটনায় তিনি এলাকার চোর বলে খ্যাত মৃত বাবুর আলী বিশ্বাসের ছেলে শামসুর রহমান, সলেমানের ছেলে শান্তির নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। চুরির পর থেকে তারা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। কিন্তু এজাহার দেওয়ার পরও পুলিশ এজাহারটি মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরও পুলিশ গ্রেফতার করছে না। গরু ৪ টি হারিয়ে তিনি সর্বশান্ত হয়েছেন।
তিনি আরো জানান, একজন কৃষকের সর্বশেষ সম্বল হচ্ছে হালের বলদ। সেটা যখন একের পর চুরি হয় তখন তার বেঁচে থাকার কোন উপার থাকে না।
মধুপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান, মিন্টুসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের গ্রামে একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। ওই এলাকা থেকে মিজানুর রহমানসহ ৬ জনের ১০ টি গরু চুরি হয়েছে। যাদের গরু চুরি হয়েছে তারা হচ্ছেন, মিজানুর রহমানের ৪টি, ইন্দ্রজিতের ১টি, জিয়াউর রহমানের ১টি, সাদিকের ১টি, রাজ্জাকের ১টি ও সিরাজের ২টি। গত বছর গরু চুরির ঘটনায় পৃথক ২টি জিডিও হয়েছে। চুরি হওয়া ১০টি গরুর আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা।
তাদের ধারণা গরু চুরির সাথে এলাকার শামসুর রহমান নামের এক ব্যক্তি জড়িত। চুরির পর থেকে সে পালিয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশ তাকে অজ্ঞাত কারনে ধরছে না। এছাড়া গত বছর সিরাজুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান থানায় পৃথক ২ টি জিডিও করেছিলেন।
ত্রিলোচনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ছানা মধুপুর গ্রামে গরু চুরির কথা স্বীকার করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে একের পর এক কৃষকের গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। গরু চুরি হওয়ায় এলাকার কৃষকরা সর্বশান্ত হচ্ছে। গরু চুরি প্রতিরোধে আমি গ্রামবাসীকে পাহারার ব্যবস্থার কথা বলেছি। সর্বশেষ গরু চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কালীগঞ্জ থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম জানান, গরু চুরির একটি এজাহার তদন্তের জন্য ওসি স্যার আমাকে নির্দেশ করেন। এজাহারে উল্লেখিত সন্দেহজনক চোর শামসুল ইসলামকে না পেয়ে তার ছেলে সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান খান জানান, গরু চুরির খবর পেয়ে তিনি এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। তারা এখনো কেউ এজাহার দেয়নি। এজাহার দিলে মামলা নিব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com