বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো: আলী হোসেন ফকির |সংগৃহীত নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে নবনির্মিত বরকাউ পুলিশ ক্যাম্পে’র উদ্বোধন করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাজউক সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ড (প্লট নং-৪৪) এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
আইজিপি বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে পুলিশের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের মাধ্যমে। পূর্বাচলকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ডিএমপি’র সর্বমোট চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র এবং দুইটি পুলিশ লাইনস্ স্থাপনের জন্য সরকারে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও তিনটি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থানাসমূহ ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। পরে রাজউক পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যার মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াধীন আছে। আগামীতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ডিএমপি’র অধীনে আনয়ন করে এখানে অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনানের তত্ত্বাবধানে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য পুলিশের প্রায় ৬৫২৪ জন লোকবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পূর্বাচলে রাজউক’র মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে বরকাউ পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন পূর্বাচলকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনার পরিচয় বহন করে। এর মাধ্যমে মেগাসিটি ঢাকার আয়তন ও কলেবর যেমন বাড়বে তেমনি নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও একটি সুসংগঠিত কাঠামো পাবে। যা ফলশ্রুতিতে নগরায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
আইজিপি বলেন, পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এই প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো বেগবান করবে। পুলিশের অবস্থান ও তৎপরতা জনমনে আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা তৈরি করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্বাচলে দুইটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হবে তার একটি বরকাউ পূর্বাচল পুলিশ ক্যাম্প, ১ নম্বর সেক্টরে; যেটি আমরা আজকে উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যটি প্রস্তাবিত পশি থানা এলাকায় ‘পশি পুলিশ ক্যাম্প’ যার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা সেই ক্যাম্পটিও উদ্বোধন করতে সক্ষম হবো। ক্রমান্বয়ে অন্যান্য থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস