বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলি। ছবি: রয়টার্স আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ভারতভিত্তিক তিনটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপ থেকে ২৪ জনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা। অভিযুক্তদের মধ্যে কুখ্যাত বিষ্ণোই (বিষ্ণুই) গ্যাংয়ের সদস্যরাও রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উন্মোচিত তিনটি পৃথক অভিযোগপত্রে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা এই অপরাধচক্রের সদস্যরাই দিয়েছিল।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, ভারতীয় অপরাধচক্রগুলোর বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে পরিচালিত তদন্তে উঠে এসেছে যে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যা, চাঁদাবাজি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এক বিবৃতিতে বলেন, যেসব আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্র ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা এবং ফেডারেল সরকারের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। এসব অপরাধীর জন্য কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই।
২০২৩ সালে ৪৫ বছর বয়সী হরদীপ সিং নিজ্জার কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরে গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারার পার্কিং এলাকায় নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় দুই মুখোশধারী বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন। তিনি খালিস্তান নামে পাঞ্জাব অঞ্চলে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির অন্যতম সমর্থক ছিলেন।
মার্কিন প্রসিকিউটররা ভারতের পাঞ্জাবের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই এবং ৩২ বছর বয়সী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে নিজ্জার হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
গোল্ডি ব্রার বর্তমানে পলাতক। অন্যদিকে লরেন্স বিষ্ণোই ২০১৫ সাল থেকে ভারতে কারাগারে রয়েছেন।
গত বছর কানাডা বিষ্ণোই গ্যাংকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর ফলে দেশটিতে গ্যাংটির সম্পদ জব্দ এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ক্ষমতা পায় সরকার।
২০২৪ সালে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় কানাডা ও ভারতের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বর্তমানে বিচারাধীন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের সহিংসতার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি তাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, লরেন্স বিষ্ণোই, গোল্ডি ব্রার এবং তাদের সহযোগীরা গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ভুক্তভোগীর কাছে ৫০ লাখ ডলার চাঁদা দাবি করেছিলেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় এক হাজার কেজি কোকেন, এক কেজি হেরোইন, ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ এবং এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে।
এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ, কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অংশ নেয়।