বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে ইরান। এতে পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাত অবসানে বড় পরিসরে আলোচনার সময়সূচির প্রস্তাব রয়েছে বলে আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের প্রস্তাবে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।
এর আগে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে যেকোনো চুক্তিতে ইরানের দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এর মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথের জন্য এখনো উন্মুক্ত। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও তারা ধরে রেখেছে।
দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বেশ কঠোর। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ কতটা তৈরি হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে জড়িত হামলায় আরব উপদ্বীপের আশপাশে জাহাজ চলাচল ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাতার পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করছে।
এখনো হয়নি চুক্তি
আলোচনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো সংঘাতের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব মোকাবিলা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেও ভিন্ন ধরনের বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের আলোচনাকে তিনি ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির দিকে অগ্রগতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন।
তবে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তার সামনে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: গলফ নিউজ