বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিবে মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। তবে তাদের প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে দেশটি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে-এর বরাতে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর এ সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। তিনি এটিকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং মালয়েশিয়ায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “অনেকেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাদের কোথায় পাঠানো হবে? এতদিন মিয়ানমারই তাদের গ্রহণ করতে চাইত না। তাই মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন তারা প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিতে সম্মত হয়েছে।” একই আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও মিয়ানমার নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। তবে এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

এর আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়। সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে পেনাংয়ের একটি শিবির থেকে আসা শতাধিক রোহিঙ্গার জমায়েতের পর মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের কুয়ালালামপুর, সেলানগর ও পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক এই শরণার্থী সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ২০২৪ সালের মে মাসে রাখাইন রাজ্যের বুথিডং টাউনশিপে সংঘাতের পর আরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেয়। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতিতে অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কথা বারবার তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com