বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা ॥
আগামী আগস্টে তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরের মধ্যেই প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশের ৪,৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শেষ। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতির মাঠ। তবে দলীয় প্রতীকবিহীন এই নির্বাচনে বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ- সব আসনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক রাজনৈতিক দল অনেক আসনেই এরই মধ্যে একক প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে জোর প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে।
বিএনপির প্রস্তুতি ও ৩ মানদণ্ড
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে চায় বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার, পোস্টার-ফেস্টুন টাঙানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব রয়েছেন; কেউ কেউ আবার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমর্থন পেতে তদবিরও চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের এবং পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার বার্তা দিয়ে তিনি কঠোর নির্দেশ দেন- ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে।
প্রার্থী বাছাইয়ে তিনটি প্রধান মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে:
জনপ্রিয়তা, সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতা ও বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা
“বড় দলে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি ত্যাগ, অবদান ও গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন,
“নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করবে। একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে যে যার অবস্থান থেকে নির্বাচনি প্রস্তুতি নেওয়াটাই স্বাভাবিক।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন,
বিদ্রোহী সামলাতে বিশেষ দায়িত্ব ও শঙ্কা
প্রার্থী জট ও বিদ্রোহী সামলাতে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের। তাঁরা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানাবেন।
তবে কেন্দ্রের এই তৎপরতা সত্ত্বেও তৃণমূল কতটা একসূত্রে বাঁধবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মনে বড় ধরনের সংশয় রয়েই যাচ্ছে। কারণ, সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠোর বার্তা দেওয়ার পরও ১৯০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বহিষ্কৃত হন। ফলে আসন্ন প্রতীকহীন স্থানীয় নির্বাচনেও সেই বিদ্রোহী অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি ঘটে কি না- তা নিয়েই এখন হিসাব-নিকাশ চলছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে।