রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অকাল বন্যার আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে।
রোববার (৩ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান ও হাওর অববাহিকায় মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টা এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পাউবো জানায়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের সুরমা নদী ও কুশিয়ারা নদী-এর পানি সমতল আগামী তিন দিন ধারাবাহিকভাবে বাড়বে। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর পানি তৃতীয় দিনে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু নদী, জুড়ি নদী, খোয়াই নদী ও সুতাং নদী-এর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে থাকবে। এর মধ্যে জুড়ি ও খোয়াই নদীর পানি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেত্রকোনা অঞ্চলের ভোগাই-কংশ নদী ও সোমেশ্বরী নদী-এর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই নদী-এর পানি আগামী তিন দিন বাড়বে। বিশেষ করে খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে বাউলাই নদীর পানি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, হাওর বেসিনের তিন জেলার পাঁচটি নদীর ছয়টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে-
নলজুর নদী (জগন্নাথপুর): ২৯ সেন্টিমিটার ওপরে, ভোগাই-কংশ (জারিয়াজঞ্জাইল): ৮৯ সেন্টিমিটার ওপরে, সোমেশ্বরী (কলমাকান্দা): ৬৪ সেন্টিমিটার ওপরে, মগরা (নেত্রকোনা): ৭৪ সেন্টিমিটার ওপরে, মগরা (আটপাড়া): ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে, সুতাং (রেলব্রিজ): ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে
পাউবো আরও জানায়, সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় নদীগুলোর পানি প্রতি ঘণ্টায় ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার হারে ধীরগতিতে বাড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীমঙ্গল-এ ৬২ মিলিমিটার এবং হবিগঞ্জ-এ ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে আগাম ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।