রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
সংবিধান: সংশোধন না সংস্কার? দুই জোটের অনড় অবস্থানে কমিটি গঠন অনিশ্চিত রাণীশংকৈলে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সভাপতি মানিক ও সম্পাদক মোশাররফ বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে: ইরানি কমান্ডার ইসলামপুরে সাংবাদিকদের সাথে স্থানীয় এমপির মতবিনিময় অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে—-ত্রানমন্ত্রী দুলু নোবেলজয়ী নার্গিস গুরুতর অসুস্থ, কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নামছে বাংলাদেশ মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি : প্রধানমন্ত্রী

সংবিধান: সংশোধন না সংস্কার? দুই জোটের অনড় অবস্থানে কমিটি গঠন অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংসদ ডেস্ক, ঢাকা ॥
দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান কি কেবল সংশোধন হবে, নাকি আমূল সংস্কার? এই মৌলিক ও আদর্শিক প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং নীতিনির্ধারণী মহলে সৃষ্টি হয়েছে গভীর বিভক্তি। এই বিতর্কের জেরে সংবিধান পর্যালোচনার জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রক্রিয়া চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ নিয়ে জোর তৎপরতা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে।

সংকটের মূলে আদর্শিক লড়াই
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সংবিধানের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্পষ্ট দুটি ধারা তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ মনে করছে, বিগত বছরগুলোতে সংবিধানে যেসব বিতর্কিত সংশোধনী আনা হয়েছে, সেগুলো বাতিল বা সংশোধন করলেই গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ফিরে আসবে। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় অন্য একটি বড় অংশ দাবি তুলছে পূর্ণাঙ্গ ‘সংবিধান সংস্কারের’।

দুই জোটের শীর্ষ নেতাদের মতে, লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট না করে কমিটি গঠনের কোনো সার্থকতা নেই। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা- কোনটি অগ্রাধিকার পাবে, তা নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য না হওয়া পর্যন্ত এই স্থবিরতা কাটবে না।

জুলাই সনদ ও বিরোধী জোটের অনড় অবস্থান
‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলেও প্রধান বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি জোট এখন পর্যন্ত কমিটিতে তাদের কোনো সদস্যের নাম জমা দেয়নি। বিরোধী জোটের দাবি, গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। যদিও গণভোট সংক্রান্ত আদেশ সংসদে বাতিল হওয়ায় তারা কিছুটা নমনীয় হয়েছে, তবুও ‘সংশোধন’ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নিয়ে তারা এখনো দ্বিধাগ্রস্ত। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আগামী জুনের বাজেট অধিবেশনের আগে কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রস্তাবিত তালিকা ও বর্তমান অচলাবস্থা
গত ২৯ এপ্রিল আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং তার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। আইনমন্ত্রী জানান, ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা রয়েছেন।

সংসদীয় আনুপাতিক হার অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে নাম পাওয়া গেলে প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগোত। তবে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ‘সংস্কার’ চান, কিন্তু সরকারের বর্তমান উদ্যোগ ‘সংশোধন’ অভিমুখী।

পিছিয়ে যাচ্ছে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন
গত বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত হলেও বিরোধী জোটের নাম না আসায় ঝুলে গেছে পুরো প্রক্রিয়া। সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসবে জুন মাসে বাজেটকে কেন্দ্র করে। এর ফলে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com