মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

দোহারে ঋণের চাপে ৫ দিনে মা ও মেয়ের মৃত্যু, এলাকায় ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বেসরকারি সংস্থা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সময় মতো দিতে না পারায় চাপ দেয় ঋণদাতা সংস্থার কর্মকর্তারা। তাঁদের চাপে ও গালাগালির কারণে লজ্জায় অভিমানে অসুস্থ হয়ে পড়ে দোহারের খালপাড় এলাকার লাবলী আক্তার। পরে গত ২৪ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ঠিক একই কারণে মেয়ের ঋণের চাপ দেয় হয় তার মাকে। মা চাপ সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে একই অবস্থায় মাও সোমবার রাতে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

৫ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা না হওয়ায় অপরাধীরা ধরা-ছোয়ার বাইরে।ঋণদাতা সংস্থার কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তাঁদের টাকা আদায় করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলার খালপাড় এলাকার মৃত শেখ শহীদের স্ত্রী এক বছর আগে রুরাল কনস্টাকশন নিউনেশন এনজিও উপজেলার বটিয়া শাখা থেকে প্রবাসী কোটায় ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠায়। বিগত কয়েক মাস যুদ্ধের কারণে ছেলে টাকা পাঠাতে পারেনি। তাই লাবলী আক্তার কিস্তি পরিশোধ করতে বিলম্ব হয়। এতে এনজিও কর্মকর্তারা নানাভাবে চাপ দিতে থাকে লাভলী আক্তারকে। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ভয়ে বাড়ি ত্যাগ করে অন্যত্র অবস্থান নেয়। এনজিওর লোকজন লাভলী আক্তারের বাবা বাড়ি উপজেলার নাগেরকান্দায় গিয়ে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। গত ২৪ জুন বুধবার লাভলী আক্তার তার মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে এমনটা জানতে পেরে ওই কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে তার সেখানে গিয়ে গ্রেপ্তার করার কথা বলে ভয়ভীতি দেখায়। ওইদিনই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সন্ধ্যার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক লাভলী আক্তারকে মৃত ঘোষনা করে।

ঠিক এক সপ্তাহ না যেতেই মৃত লাভলীর ‍ঋনের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেয়া হয় তার মা রেহানা বেগমকে। সোমবার সন্ধ্যার আগে ওই এনজিওর পক্ষ থেকে লাভলী আক্তারের বাবার বাড়ি নাগেরকান্দা এলাকায় তার মাকে টাকা পরিশোধ না করলে পুলিশের ভয় দেখানো হয়। রেহানা বেগম আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে জানায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।

নাগেরকান্দা এলাকার রইস লস্কর জানান, ৫ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এনজিও কর্মকর্তাদের এমন আচরণে ভয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এ বিষয়ে সরকারকে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

রেহানা বেগমের ছেলে নুরুল ইললাম বলেন, আমার মা ঋণের বিষয়ে অবগত নয়। তারপারও এনজিও লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে মায়ের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে এবং পুলিশের ভয় দেখায়। এসময় ঘরের সিঁড়িতে দাঁড়ানো অবস্থায় মা পড়ে গিয়ে মারা যায়। এনজিওর চাপ সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে আমার মা ও বোন মারা গেছে। আমি আমার মা ও বোনের মৃত্যুর বিচাই চাই।

দোহার উপজেলার বটিয়ায় অবস্থিত রুরাল কনস্টাকশন নিউনেশনের শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার জাহিদ বলেন, ঋণ গ্রহীতা লাভলী আক্তার গত ৬ মাস আগে ঋণখেলাপী হয়েছে। আমরা টাকা আদায়ে নানাভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। লাভলী মারা যাওয়ার পর আমরা তার ঋণ মওকুফের জন্য মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকের চাইতে তার মায়ের বাড়িতে যাই। কিন্তু টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়নি।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবুবকর সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাঈদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আমাদেরকে লিখিতভাবে জানালে ওই এনজিওর বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com