মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

দুই বছরের কর্মময় অধ্যায়ের ইতি, রেখে গেলেন সুশাসন ও জনআস্থার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

দুই বছরের কর্মময় অধ্যায়ের ইতি, রেখে গেলেন সুশাসন ও জনআস্থার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
দায়িত্ব পালন শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয় সততা, সাহসিকতা ও জনকল্যাণে নিবেদিত মানসিকতা দিয়েও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া যায়। দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ ঠিক সেই উদাহরণই রেখে গেলেন।

২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দোহার উপজেলায় যোগদানের পর প্রায় দুই বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেকে একজন সৎ, দক্ষ, নির্ভীক ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ফলে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা যেমন বেড়েছে, তেমনি একজন সাহসী কর্মকর্তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দায়িত্বকাল জুড়ে জনস্বার্থে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেন তাসফিক সিবগাত উল্লাহ। বিশেষ করে রাতের আঁধারে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান ছিল অত্যন্ত সাহসী ও আলোচিত। একাধিক অভিযানে অবৈধ ড্রেজার, খননযন্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়, যা নদী রক্ষা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইলিশের প্রজনন মৌসুমে পদ্মা নদীতে দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, অবৈধ ভাবে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিহ্নিত অপরাধী, মাদক কারবারি ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন। মাদক নির্মূলে তার ভূমিকা স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। সরকারি জমি দখল মুক্ত করতে একাধিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেন।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ও সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে তার কর্মকান্ড প্রশাসনিক মহলেও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করেন তিনি। অবৈধ ব্যবসা, পরিবেশ দূষণ, সরকারি নির্দেশনা অমান্য, মাদকসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করেন।

দোহারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সহজ ও আন্তরিক আচরণের কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অভিযোগ নিষ্পত্তি, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান এবং সাধারণ মানুষের কথা ধৈর্যের সঙ্গে শোনার মানসিকতা তাকে একজন ব্যতিক্রমী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

দুই বছরের দায়িত্ব পালন শেষে তাসফিক সিবগাত উল্লাহ দোহার থেকে বিদায় নিলেও তার কর্মনিষ্ঠা, সাহসিকতা, নিরপেক্ষতা এবং জনসেবার অসংখ্য স্মৃতি দোহারবাসীর মনে দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে। তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে ঢাকা বিভাগে যোগদান করেছেন। দোহারবাসী ও একুশের কণ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে তাসফিক সিবগাত উল্লাহর প্রতি জানানো হচ্ছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবন আরও সাফল্য মন্ডিত হোক এটাই সবার প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের প্রশাসনে তাসফিক সিবগাত উাহর মতো সৎ, নির্ভীক, ন্যায়পরায়ণ ও জনকল্যাণে নিবেদিত কর্মকর্তার পয়োজন আজ আরও বেশি। দায়িত্বের নতুন অধ্যায়েও তিনি একই নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন এমনটাই বিশ্বাস দোহারবাসীর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com