রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হোসেন ইমাম ফরিদ আহমেদ, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:: বহুল আলোচিত কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের সঙ্গে জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হোসেন ইমামের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরও করা হয়েছে (১০/২০২৬) তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ বিধি ৩(খ) মোতাবেক অসাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখার সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যেহেতু আপনার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন কুষ্টিয়ার ১১-২০ গ্রেডের শূন্য পদ সময়ে জনবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অন্যায়ভাবে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়, যেহেতু আপনার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়, আপনার ওই কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা এবং বিধিমালা অনুযায়ী অসাদাচরণ হিসেবে গণ্য। তাই চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কেন আপনাকে চাকরি হতে বরখাস্ত অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড দেয়া হবে না, সে বিষয়ে নোটিশপ্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হলো।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) ডা. হোসেন ইমামের নিজস্ব বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে হোসেন ইমাম অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করে তার বাড়িতে কিছু পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। সে সময় বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। চারদিক থেকে বিষয়টি তদন্তের দাবি ওঠে। এমন প্রেক্ষিতে পরীক্ষার সঙ্গে আরএমও হোসেন ইমামের কোনো যোগসূত্র না থাকলেও বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক।
এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে। দীর্ঘ তদন্তের পর কমিটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন আরএমও’র বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের সত্যতা পায়।
আরো জানা যায়, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সাতটি পদে মোট ১১৫ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয় ২০২৫ সালের ৪ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত। এতে স্বাস্থ্য সহকারী ৯৭ জন, পরিসংখ্যানবিদ ৩ জন, কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান ১ জন, স্টোর কিপার ৪ জন, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর ১ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৫ জন, ড্রাইভার ৪ জন।
এ দুর্নীতিকাণ্ডে ডা. হোসেন ইমাম ছাড়াও আর কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এসএম কামাল হোসেন বলেন, এ ধরনের তথ্য তার জানা নেই। এটি তদন্ত কমিটি বলতে পারবে।