বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

৮০ শতাংশ বই নিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক:: আগামী ১ জানুয়ারি বই উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেবে সরকার। তবে এবার ৮০ শতাংশ বই নিয়ে বই উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ফলে রীতি অনুযায়ী বছরের প্রথম দিন আড়ম্বরপূর্ণভাবে বই উৎসবের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ওই দিন সব বই পৌঁছাবে না শিক্ষার্থীদের হাতে।

এবার কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিকের বই উৎসব হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। অন্যদিকে মাধ্যমিকের বই উৎসব হবে গাজীপুরের কাপাসিয়া সদর উপজেলার কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই দিন সব স্কুলে পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিটি শ্রেণির একজন করে শিক্ষার্থীকে এক সেট করে বই দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বই উৎসবের আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশের মতো বই পাঠানো হয়েছে।

বুধবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার কারণে যেহেতু গত দুই বছর উৎসব হয়নি, তাই এবার খুবই আড়ম্বরপূর্ণভাবে সারা দেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসব হবে। আমরা প্রতিটি জেলা-উপজেলায় জানিয়ে দিয়েছি আড়ম্বরপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে বই দেওয়ার জন্য। আমরা বেশিরভাগ বই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফায়জুদ্দিন ফকির বলেন, ‘আমাদের কাছে ইমেইল এসেছে। ১ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থেকে বই উৎসবে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেবেন। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বছরের প্রথম দিন মিলবে না সব বই: নতুন বছরের প্রথম দিনটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যরকম এক আনন্দের দিন। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ শুঁকতে শুঁকতে বাড়ি ফেরার এই রীতি বহু বছরের। তবে করোনার থাবা এসে মলিন করে দেয় বই উৎসব। বিগত দুই বছর প্রথম দিন সব বই পৌঁছায়নি শিক্ষার্থীদের হাতে। পুরোনো স্মৃতিকে ভুলে সামনে বছরের শুরুতে সব নতুন বই পাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তা অধরাই থেকে যাচ্ছে।

এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৭০ শতাংশের মতো বই পাঠানো হয়েছে। বাকি আরও ১০ শতাংশ বই উৎসবের আগেই পৌঁছানো হবে। এ ছাড়া ছাপার বাকি ২০ শতাংশ বই জানুয়ারির মধ্যেই পৌঁছানো হবে শিক্ষার্থীদের হাতে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৪ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে সাড়ে ৩৪ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি মিলিয়ে এই স্তরে ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫৩ হাজার এবং মাধ্যমিক স্তরে স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি মিলিয়ে ২৪ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার কপি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। বিভিন্ন অবাঙালি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার বই ছাপা হচ্ছে ২ লাখ ১২ হাজার ১৭৭ কপি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৮১ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর প্রাথমিকে গত রবিবার পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে পৌঁছেছে ৬৮ শতাংশ বই। কাগজ ও কালির সংকট, ঊর্ধ্বমুখী দাম, ছাপা সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং, দুটি শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম এনসিটিবির কার্যাদেশে দেরি ইত্যাদি কারণে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে নতুন বই পাবে না অনেক শিক্ষার্থী। শুরুর দিকে ছাপানো মাধ্যমিকের বইগুলো মানসম্মত হলেও কাগজ সংকটের কারণে এখন নিম্নমানের বই ছাপানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বই ছাপানো ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘নানা সংকটে সব বই হয়তো শিক্ষার্থীরা পাবে না। তবে সবার হাতে বই পৌঁছাবে। আমরা মাধ্যমিকে অন্তত ৮০ শতাংশ বই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছে দেব। বাকি বইগুলো ১৫-২০ জানুয়ারির মধ্যে সবার হাতে পৌঁছাবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com