বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও গাজায় যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
তিনি রোববার ইসরাইলের এক মিডিয়ায় দেয়া সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন। সাক্ষাতকারে তিনি ইঙ্গিত দেন যে গাজায় এখনো আটক সব বন্দীকে মুক্তির ব্যবস্থা করা না হলেও কয়েকজনকে ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে তিনি ‘আংশিক’ চুক্তি করতে প্রস্তুত।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শেষ হবে, এমন কোনো শর্তমূলক চুক্তি তিনি মানবেন না। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উত্থাপিত ইসরাইলি প্রস্তাবটি কার্যত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাবে।
রোববার ইসরাইলি মিডিয়া আউটলেন চ্যানেল ১৪-এ দেয়া ওই সাক্ষাতকারে তিনি আরো বলেন, ‘লক্ষ্য হলো অপহৃতদের উদ্ধার করা এবং গাজায় হামাসের শাসন উচ্ছেদ করা।’
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ঘোষণা করেন। তাতে তিনটি পর্যায় ছিল। প্রথম পর্যায়ে কয়েকজন ইসরাইলি বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে ছয় সপ্তাহের অস্ত্রবিরতির কথা বলা ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা উল্লেখ ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইসরাইলই প্রস্তাবটি প্রণয়ন করেছে। তবে নেতানিয়াহু এবং বেশ কয়েকজন ইসরাইলি কর্মকর্তা হুঙ্কার দিয়ে যাচ্ছিলেন যে হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। তারা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি প্রকাশ্যে অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন।
নেতানিয়াহু সাক্ষাতকারে আরো বলেন, দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরাইলের ‘তীব্র’ সামরিক অভিযান শেষ হয়ে আসছে। তবে এর মানে এই নয় যে যুদ্ধ শেষ হয়ে আসছে। বরং বলা যায়, রাফায় যুদ্ধের তীব্রতা শেষ হয়ে আসছে।
গত ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরুর পর এটাই নেতানিয়াহুর প্রথম কোনো মিডিয়া সাক্ষাতকার। এই সাক্ষাতকারে তিনি আবারো হামাসের স্থানে অধিকৃত পশ্চিমতীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসন প্রতিষ্ঠার ধারণাটি নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি বেসামরিক প্রশাসন চালু করব। যুদ্ধ সম্ভব হয় স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের দিয়ে এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সমর্থনে। তা করা হবে মানবিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা এবং উপত্যকার বেসামরিক বিষয়াদি তদারকি করার জন্য।’ ‘এরপর দুটি কাজ করতে হবে : আমাদেরকে গাজাকে বেসামরিকীকরণ করা এবং একটি বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা।’
সূত্র : আল জাজিরা এবং অন্যান্য