রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন
মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২৭৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আরও এক সহযোগী পালিয়ে গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাণীশংকৈল উপজেলার গোগর ঝাড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় পুলিশ দেখে পালানোর চেষ্টা করেন জামাল উদ্দিন পুত্র মো. মাসুদ রানা (২৯)। পরে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে পলিথিনে মোড়ানো তিনটি প্যাকেটে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ট্যাবলেটের প্রতিটির গায়ে ইংরেজিতে ‘ঞধঢ়বহঃধফড়ষ ঞধনষবঃ ১০০ সম’ লেখা ছিল। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ৬ হাজার টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ রানা জানায়, এসব ট্যাপেন্টাডল পীরগঞ্জ উপজেলার মিত্রবাড়ী (জোরাকবর) এলাকার একটি স্থান থেকে সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন।
অন্যদিকে, একই রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার মিত্রবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রামপ্রসাদের পুত্র প্রদীপ দাস (২০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বসতবাড়ির শয়নঘরের খাটের তোষকের নিচে রাখা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, ওই ব্যাগ থেকে ১ হাজার ২৪৫ পিস, দুই প্যাকেট থেকে ১৬ পিস, একটি প্যাকেট থেকে ৫ পিস এবং আরও একটি প্যাকেট থেকে ৪ পিসসহ মোট ১ হাজার ২৪৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব ট্যাবলেটের প্রতিটির গায়ে ‘ঞধঢ়বহঃধফড়ষ ঞধনষবঃ ১০০ সম’ লেখা ছিল। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ এক লক্ষ ৩ হাজার ৮০০ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রদীপ দাস মাদকগুলো পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল থানার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত শ্যামল দাস (২২) নামে আরও একজন পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।