বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
প্রতিনিধি কলকাতা : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে ছাত্রসমাজের ‘অভিযান’ বন্ধে হস্তক্ষেপ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট ।
ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্রসমাজ’-এর ডাকে আগামী মঙ্গলবার নবান্ন অভিযান হতে আইনগত কোনো বাধা থাকছে না ।
নবান্ন অভিযান বন্ধের আরজি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল । মামলার শুনানি শেষে গতকাল শনিবার বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়ে দেন, এ ব্যাপারে তাঁরা কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না ।
তবে এই অভিযান কেন বন্ধ করা হবে, আইন কী বলছে—এসব বিষয়ের জবাব হলফনামার (অ্যাফিডেভিট) মাধ্যমে আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট । চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ।
কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যার ঘটনার জেরে মমতার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একদল অরাজনৈতিক শিক্ষার্থী এই অভিযানের ডাক দিয়েছেন ।
৯ আগস্ট ভোরে হাসপাতালটির চারতলার সেমিনার কক্ষে নারী চিকিৎসকের লাশ পাওয়া যায় । পরে জানা যায়, তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে । এই ঘটনায় এখনো মূল দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারেননি তদন্তকারীরা ।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও নবান্ন অভিযানে সমর্থনের ঘোষণা এসেছে । রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন অভিযানে সমর্থন দিয়ে বলেছেন, নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যার দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা অবিলম্বে পদত্যাগ করুক । কারণ, রাজ্যের মানুষ এবার বুঝে গেছে, এই ঘটনাকে আড়াল করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী । তাই রাজ্যজুড়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে ।
ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামীকাল সোমবারের মধ্যে মমতাকে পদত্যাগ করতে হবে । তা না হলে তারা পরের দিন মঙ্গলবার নবান্ন অভিযান করে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করবেন ।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কলকাতার কলেজ স্কয়ার ও হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে জমায়েত হবেন ছাত্ররা । এরপর বেলা দুইটার দিকে তাঁরা মিছিল নিয়ে নবান্ন অভিযানে যাবেন। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে নবান্ন অভিযানে যাবেন ।
অভিযান ঘিরে যাতে কোনো রকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সেই লক্ষ্যে পুলিশ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে ।
নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যাকে ঘিরে ১৪ আগস্ট রাতে আর জি কর হাসপাতালে ভাঙচুর-লুটপাট হয় । এই ঘটনার পর বাম দল সিপিএমের যুব ও ছাত্রসংগঠনের সাত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের হেডকোয়ার্টার লালবাজার থেকে নোটিশ জারি করা হয় । তাঁদের লালবাজারে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয় ।
পুলিশের এমন নির্দেশের জেরে গতকাল কলকাতার একদল আইনজীবী ও গণতান্ত্রিক নারী সমিতির সদস্য একজোট হয়ে বড় মিছিল নিয়ে ‘লালবাজার অভিযানে’ অংশ নেন । তাঁরা নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যার মূল আসামিদের অবিলম্বে শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান । এই ঘটনার দায় নিয়ে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতার পদত্যাগ দাবি করেন ।
মিছিলকারীরা লালবাজারে যেতে চাইলে বউবাজারের বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ । পরে নোটিশ পাওয়া সাত নেতা-কর্মী আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে লালবাজারে গিয়ে পুলিশের কাছে নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে আসেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন ।
গতকালও প্রতিবাদী মিছিলে মিছিলে উত্তাল ছিল কলকাতা । এসব মিছিল থেকে চিকিৎসকের ধর্ষণ-হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শনাক্ত করে শাস্তি দেওয়ার দাবি ওঠে । একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার পদত্যাগ চাওয়া হয় ।