বুধবার, ০৩ Jun ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কন্ঠ:: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই আবারও ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের পর সেখানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। পাল্টা হামলার দাবি করেছে তেহরানও। ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসি’র।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পরিচালিত অভিযান ছিল ‘আত্মরক্ষামূলক’। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
সেন্টকমের ভাষ্যমতে, কেশম দ্বীপে হামলার লক্ষ্য ছিল একটি ইরানি সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। এছাড়া আঞ্চলিক সমুদ্রপথে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজের দিকে ছোড়া তিনটি হামলাকারী ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা এ অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকম আরও দাবি করেছে, ইরান কুয়েতের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ব্যর্থ হয় বা ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি বাহরাইনের দিকে ছোড়া আরও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারকে অচল করে দেওয়ার দাবি করে মার্কিন বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় বতসোয়ানার পতাকাবাহী ওই জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। মঙ্গলবার এ হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে সেন্টকম। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বুধবার ভোরে কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম। আধা-সরকারি মেহর বার্তাসংস্থা জানায়, বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, কেশম দ্বীপের সুজা ও মাসেন এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, দুই এলাকার মাঝামাঝি একটি জনবসতিহীন এলাকায় কোনো ধরনের প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা অর্জিত হয়নি। সর্বশেষ কেশম দ্বীপকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাতের ঘটনায় সেই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।