বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেট্টি। ছবি- এপি আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর শহরজুড়ে নতুন করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। খবর আল জাজিরার।
মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা সাংবাদিকদের জানান, শনিবার (স্থানীয় সময়) ৩৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি হাসপাতালে মারা যান। তাকে একাধিকবার গুলি করা হয়েছিল। নিহত ব্যক্তি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। তার বাবা-মা পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, নিহতের নাম অ্যালেক্স প্রেট্টি। তিনি একটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন দমন অভিযানের অংশ হিসেবে ফেডারেল এজেন্ট ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় এসব অভিযান চলছিল। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রেনি গুড নামের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত হওয়ার পর থেকেই শহরটিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ চলছিল। ওই ঘটনায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তা গাড়ির ভেতর থেকে গুলি চালালে রেনি গুড নিহত হন।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে শহরের আরেক ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সেন্ট পল শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সংগঠিত নিষ্ঠুরতার একটি অভিযান। আজ সেই অভিযানে আরেকটি প্রাণ ঝরে গেল।’ তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য নিজেই পরিচালনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সদস্য এমন এক ব্যক্তিকে গুলি করেন, যিনি একটি হ্যান্ডগান বহন করছিলেন এবং অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করছিলেন। বিভাগের মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, ওই ব্যক্তি হাতে বন্দুক নিয়ে এজেন্টদের দিকে এগিয়ে আসেন এবং নিরস্ত্র করার চেষ্টায় ‘হিংস্রভাবে প্রতিরোধ’ করেন। সে সময় আত্মরক্ষার্থে এজেন্ট গুলি চালান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের সমালোচনা করেন। উদ্ধার করা বন্দুকের ছবি শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘স্থানীয় পুলিশ কোথায় ছিল? কেন আইসিই কর্মকর্তাদের রক্ষা করা হলো না?’ তিনি আরও বলেন, ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও মেয়র ‘দম্ভপূর্ণ ও বিপজ্জনক বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছেন’।
তবে ঘটনার সময় পথচারীদের ধারণ করা ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যালেক্স প্রেট্টি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে এজেন্টদের ভিডিও করছিলেন। একপর্যায়ে এক এজেন্ট তার ও অন্য বিক্ষোভকারীদের দিকে পেপার স্প্রে ছুড়লে তিনি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং অন্যদের সহায়তা করেন। এরপর কয়েকজন এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে আঘাত করতে থাকেন।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওপেন সোর্স অনুসন্ধানকারী সংস্থা বেলিংক্যাট জানায়, প্রথম গুলি ছোড়ার আগেই প্রেট্টির কাছ থেকে একটি বন্দুক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটির দাবি, দুজন আলাদা এজেন্টকে গুলি চালাতে দেখা গেছে এবং অন্তত ১০টি গুলির শব্দ শোনা গেছে। এর বেশিরভাগই ছোড়া হয়, যখন তিনি ইতোমধ্যেই মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, নিহত ব্যক্তি বৈধভাবে অস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত বন্দুক মালিক ছিলেন। মিনেসোটায় অনুমতিসাপেক্ষে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের সুযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর শত শত বিক্ষোভকারী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সশস্ত্র ও মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্টদের ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরা এজেন্টদের উদ্দেশে স্লোগান দেন এবং শহর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে ফেডারেল বাহিনী এলাকা ত্যাগ করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, যদিও বিক্ষোভকারীরা আরও কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় অবস্থান করেন।
গভর্নর ওয়ালজ জানান, ঘটনার পর তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘটনাস্থলের আশপাশ এড়িয়ে চলতে এবং শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।