বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক , অনলাইন ডেস্ক ॥
ঢাকা: আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দিবাগত রাতে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। হিজরি সনের ১৪ শাবান দিবাগত এই রজনীটি মুসলিম উম্মাহর কাছে ‘লাইলাতুল মুবারাকা’ বা বরকতময় রাত হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতে বান্দাদের জন্য রহমত ও মাগফিরাতের অশেষ দুয়ার খুলে দেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশ্বাস, এই মহিমান্বিত রাতেই মহান আল্লাহ আগামী বছরের জন্য বান্দার রিজিক, জন্ম-মৃত্যু ও ভাগ্য নির্ধারণ করেন।
ইবাদত ও আমল
দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নফল নামাজ, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করবেন। বিগত জীবনের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অশ্রুসজল নয়নে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করবেন। এ ছাড়া মৃত আত্মীয়-স্বজন ও বুজুর্গদের কবরে গিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় জিয়ারত করবেন অনেকে।
প্রধান উপদেষ্টার বাণী
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তিনি এই রাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আত্মসমালোচনা ও তওবার মাধ্যমে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার প্রচেষ্টায় আমরা অর্জন করতে পারি আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ ও মাগফিরাত।”
জাতীয় মসজিদে বিশেষ আয়োজন
শবে বরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, বিশেষ ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। একইভাবে দেশের প্রতিটি মসজিদে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওগুলো এ রাতের গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছেন।
সামাজিক রীতি ও রমজানের আগমনী বার্তা
বাংলার মুসলিম জনপদে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটিসহ উন্নত মানের খাবার তৈরির ঐতিহ্য রয়েছে। আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের মধ্যে এসব খাবার বিতরণের মাধ্যমে সৌহার্দ্য বিনিময় করা হয়। মূলত শবে বরাতের হাত ধরেই শুরু হয় পবিত্র রমজানের ক্ষণগণনা। শাবানের এই বিশেষ রজনী শেষে মাত্র দুই সপ্তাহ পরই শুরু হবে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। ফলে আজকের এই রাতটি কার্যত মুসলিমদের জন্য রমজানের প্রস্তুতিরই একটি অংশ।