সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ই-কণ্ঠ অনলাইন:: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৯ শতাধিক মানুষ। যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে বেশ কজন বাংলাদেশি আছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার উড়িষ্যা রাজ্যের ফায়ার সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক সুধাংশু সারেঙ্গি বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলায় করমণ্ডল এক্সপ্রেস ও একটি মালগাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর সোয়া তিনটা নাগাদ হাওড়ার অদূরে শালিমার স্টেশন থেকে ছেড়েছিল আপ লাইনে থাকা করমণ্ডল এক্সপ্রেস। প্রায় চার ঘণ্টা পরে উড়িষ্যার বালেশ্বরের বাহানগা বাজারের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ২৩ কামরার ট্রেনটি।
প্রথমে করমণ্ডল এক্সপ্রেসই তীব্র গতিতে গিয়ে ধাক্কা মারে একই লাইনে আগে আগে চলতে-থাকা একটি মালগাড়ির পেছনে। দুর্ঘটনার অভিঘাতে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনটি মালগাড়ির উপরে উঠে যায়। ২৩টি কামরার মধ্যে ১৫টি কামরা লাইন থেকে ছিটকে পড়ে পাশের ডাউন লাইনে ও নয়ানজুলিতে। সেই লাইন দিয়ে তখন আসছিল ডাউন বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। বেঙ্গালুরু-হাওড়া ডাউন ট্রেনটি সেই বেলাইন কামরাগুলির উপর এসে পড়ে। হাওড়াগামী সেই ট্রেনটিরও দু’টি কামরা লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনার ব্যহত হচ্ছে ট্রেন চলাচল। বাতিল করা হয়েছে অন্তত পাঁচটি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা। নিহতদের প্রতি পরিবারকে ১০ লাখ রুপি এবং আহতদের দুই লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রেল মন্ত্রণালয়।
উড়িষ্যার দমকল বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল সুধাংশু ষড়ঙ্গী জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীদেরও আশঙ্কা, উদ্ধারকাজ যত এগোবে, নিহত এবং আহতের সংখ্যা আরও বাড়বে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনে অনেক যাত্রী আটকে রয়েছেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন। গভীর রাতেও ট্রেনের দরজা ভেঙে ও গ্যাস কাটারের সাহায্যে উদ্ধারকাজ চালানো হয়। নামানো হয়েছে সেনাবাহিনীকেও।
করমণ্ডল এক্সপ্রেস মূলত বাংলা থেকে দক্ষিণ ভারতের হাসপাতালগুলিতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতি দিন বহু মানুষ করমণ্ডল এক্সপ্রেসে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকে যান। দুর্ঘটনার জেরে চিকিৎসা করাতে দক্ষিণ ভারতে যাওয়া যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন।
এদিকে এই দুর্ঘটনাবিষয়ক তথ্য জানতে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন বাংলাদেশিদের জন্য একটি হটলাইন (+৯১৯০৩৮৩৫৩৫৩৩ হোয়াটসঅ্যাপ) নম্বর দিয়েছে। উপহাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটিতে বাংলাদেশিও থাকতে পারে। চিকিৎসার জন্য অনেক বাংলাদেশি যাত্রী এই ট্রেনে কলকাতা থেকে চেন্নাই যাতায়াত করেন। এ কারণে উপহাইকমিশন দুর্ঘটনাবিষয়ক তথ্য জানতে এই হটলাইন নম্বর দিয়েছে।
দুর্ঘটনা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব-সহ রেলের পদস্থ অফিসারেরা।