বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালে ১২ কোটিতে পৌঁছেছে, এরমধ্যে ৬ কোটির বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। এ হিসেবে বিশ্বব্যাপী ৬৯ জনের মধ্যে একজন মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে ইউএনএইচসিআর বলেছে, গত ১২ বছর ধরে একটানা বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে, এরমধ্যে গত পাঁচ বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম দেশ জাপানের জনসংখ্যার প্রায় সমান।
সংস্থাটি এ পরিসংখ্যানকে উচ্চতর করার একটি মূল কারণ হিসাবে সুদানে সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করেছে। দেশটিতে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭১ লাখের বেশি মানুষের নতুন বাস্তুচ্যুতি রেকর্ড করা হয়েছে, এতে দেশটির মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ৮ লাখে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থাকে (ইউএনআরডব্লিউএ) উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতে ১৭ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা গাজার জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশের বেশি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সিরিয়াতে এখনও ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকট’ রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করেছে ইউএনএইচসিআর, যেখানে ১ কোটি ৩৮ লাখ মানুষ দেশটির ভেতরে এবং বাইরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর ডিআর কঙ্গো এবং মিয়ানমারে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘এই তীব্র এবং ক্রমবর্ধমান সংখ্যার পিছনে রয়েছে অগণিত মানবিক ট্র্যাজেডি। সেই দুর্ভোগ অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবেলা করার জন্য জরুরীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
গ্র্যান্ডি আরও বলেন, ‘যুদ্ধরত পক্ষগুলোর জন্য যুদ্ধের মৌলিক আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করার এটাই উপযুক্ত সময়। তা নাহলে বাস্তুচ্যুতির পরিসংখ্যান বাড়তেই থাকবে, এতে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জলবায়ু সংকটের মতো ব্যয়বহুল মানবিক প্রতিক্রিয়া বয়ে আনবে।’
সূত্র: আনাদোলু, আলজাজিরা