বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ইতিহাসের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। যেকারনে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এদিন স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১১ দশমিক ৭৯ ডলারে। দিনের এক পর্যায়ে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯১ দশমিক ৬১ ডলার পর্যন্ত ওঠে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
চলতি সপ্তাহের সোমবার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। শুধু এই সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধি, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী স্বর্ণ ক্রয় এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা সব মিলিয়ে দামের এই ঊর্ধ্বগতি ঘটেছে।
ওসিবিসি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক প্রতিবেদনে বলেন, সরকারি ঋণের চাপ বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়নে বাধ্য করছে। এখন সোনা শুধু সংকট বা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নয়, বরং একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, দামের এই দ্রুত ঊর্ধ্বগতি স্বল্পমেয়াদে কিছুটা সংশোধনের আশঙ্কা তৈরি করলেও ২০২৬ সাল জুড়ে স্বর্ণের মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী থাকবে। ফলে যেকোনো দরপতন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। এর আগে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম লাফিয়ে বেড়েছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮ দশমিক ০৬ ডলারে। দিনের শুরুতে রুপার দাম ১১৯ দশমিক ৩৪ ডলার ছুঁয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি।
এছাড়া স্পট প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৭১০ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও সোমবার প্লাটিনামের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯১৮ দশমিক ৮০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। অপরদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৪৮ দশমিক ১৪ ডলারে নেমে এসেছে।