মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার চরম আশঙ্কা

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, ‎লালমনিরহাট প্রতিনিধি।। ‎উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট একযোগে খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে তিস্তার পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হতে শুরু করেছে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল। ​৪৪টি জলকপাট খুলে সতর্কাবস্থায় পাউবো ​পানি উন্নয়ন বোর্ড।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিকেল ৩টার দিকে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি (৫২.১৬ সেন্টিমিটার) বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায় (স্বাভাবিক ৫২.১৫ সেন্টিমিটার)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও পানির চাপ সামলাতে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

‎​আগামী ২ থেকে ৩ দিন উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

‎​পানিবন্দি হাজারো মানুষ, সড়ক নিমজ্জিত

‎​হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে তিস্তা নদীসংলগ্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

‎​লালমনিরহাটের উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের বাসিন্দা মোন্তাজ মিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‎​নদীপাড়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ইতিমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে রাতের মধ্যে ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ার ভয় করছি। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।

‎​পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, ভারতের উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির কারণে মঙ্গলবার ভোরের পর থেকে তিস্তার পানি অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে। নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

‎​এদিকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিকেল ৩টায় পানি বিপৎসীমা ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও স্পর্শকাতর স্থানগুলো সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

‎​দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে শুকনা খাবার ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com