মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
ধামরাই প্রতিনিধি ॥
ঢাকার ধামরাই বাজারের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘মতিপাল অ্যান্ড সন্স’-এর বিরুদ্ধে দই বিক্রিতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং এক অসুস্থ শিশুর প্রতি চরম অমানবিক আচরণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ের বিখ্যাত শৈলেন গরুর খামারের দুধ পাইকারি ও খুচরা- উভয় পর্যায়েই প্রতি লিটার ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। খামারের কর্মকর্তা মোখলেস এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই একই দুধ দিয়ে তৈরি ২ কেজি ওজনের দই সাধারণ সময়ে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ঈদ বা দুর্গাপূজার মতো প্রধান উৎসবে ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে মতিপাল অ্যান্ড সন্স।
দই প্রস্তুতকারকদের তথ্যানুযায়ী, ২ কেজি দই তৈরিতে সব মিলিয়ে আনুমানিক ২২০ থেকে ২৫০ টাকা ব্যয় হয়। সেই হিসাবে বর্তমানে বিক্রি হওয়া মূল্য অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি দইয়ের পাতিলে আসলেই ২ কেজি দই থাকে, নাকি মাটির পাতিলের ওজনসহ ২ কেজি হিসেব করে ক্রেতাদের ঠকানো হয়- সে বিষয়েও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অতিরিক্ত দাম নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে চরম অমানবিকতার অভিযোগও উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার মতিপাল অ্যান্ড সন্সের দোকানের সামনে একটি শিশু হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত পাশের একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যান। সে সময় চিকিৎসার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে এক বোতল খাবার পানি প্রয়োজন হলে মতিপাল অ্যান্ড সন্সের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও দোকান কর্তৃপক্ষ পানি দিতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে অন্য স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে শিশুটিকে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
একটি অসুস্থ শিশুর জন্য এক বোতল পানি দিতে অপারগতা প্রকাশের ঘটনায় স্থানীয় বাজারে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, কেবল লাভজনক ব্যবসাই শেষ কথা হতে পারে না; মানুষের প্রতি ন্যূনতম মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাটুকুও বজায় রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বারবার নির্দেশ দিয়েছেন যে, দইসহ যেকোনো দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে বিএসটিআই-এর অনুমোদন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং মোড়কের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্ট উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ধামরাইবাসী।