সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন

বাবরের নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ল জালমি

স্পোর্টস রিপোর্টার:: লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রবিবারের নাটকীয় ফাইনালের শেষ দৃশ্যে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল পেশোয়ার জালমি শিবির। চাপ, ধাক্কা আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে ভর করে তারা হারাল হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে ৫ উইকেটে। আর তাতেই কাটল ৯ বছরের শিরোপা খরা। একই সঙ্গে অধিনায়ক বাবর আজম পেলেন নিজের নেতৃত্বে প্রথম বড় ট্রফির স্বাদ।

মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ছিল জালমির জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিরে যান মোহাম্মদ হারিস ও বাবর। দুজনকেই শিকার বানান মোহাম্মদ আলি। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়লেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এরন হার্ডি ও আবদুল সামাদ। তাদের ৮৫ রানের জুটি ম্যাচটিকে একতরফা করে দেয়।

সামাদ ৩৪ বলে ৪৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও আসল নায়ক ছিলেন হার্ডি। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩৯ বলে ৫৬ রান করে নিশ্চিত করেন জালমির জয়। ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে তারা।

এর আগে টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত ছিল জালমির জন্য মাস্টারস্ট্রোক। শুরু থেকেই চাপে পড়ে কিংসম্যান। ১৬ রানের মধ্যে প্রথম উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সাইম আইয়ুব ও মার্নাস লাবুশেন। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা আর বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি।

মাঝে হঠাৎ ধস নামে- মাত্র ৮ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোর নেমে আসে ৭৩/৬ এ। সেখান থেকে ইনিংস বাঁচানোর দায়িত্ব কাঁধে নেন সাইম আইয়ুব। ধীরস্থির ৫০ বলে ৫৪ রান করে দলের হয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হন তিনি। তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

বল হাতে জালমির হয়ে ঝড় তোলেন হার্ডি। ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। তাকে ভালো সঙ্গ দেন নাহিদ রানা, যিনি নেন ২ উইকেট। এছাড়া সুফিয়ান মুকিম ও মোহাম্মদ বাসিত একটি করে উইকেট তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১২৯ রানে থামে কিংসম্যানদের ইনিংস। আর সেই লক্ষ্য খুব বেশি কষ্ট না করেই টপকে যায় জালমি।

২০১৭ সালের পর আবারও শিরোপা জিতে নিজেদের অবস্থান নতুন করে জানান দিল জালমি। আর বাবরের জন্য এই ট্রফি শুধু একটি শিরোপা নয়। এটি তার নেতৃত্বের স্বীকৃতি, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাপ্য অর্জন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com