রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক:: ভারতের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর।
রোববার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৩১ জুলাই থেকে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
গত এপ্রিল মাসেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আশঙ্কা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছিলেন বাড়িতে। রোববার আর শেষরক্ষা হল না। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ।
দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রবীণ এই সাহিত্যিক। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় এক মাসের যুদ্ধ জয় করে ফিরেছিলেন বাড়ি। কিন্তু আগস্টেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন হাসপাতাসলে। চার চিকিৎসকের একটি দল চিকিৎসা করছিলেন বুদ্ধদেব গুহর।
দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক কাজি সামসুজ্জুমান এবং ডা: উজমা নাফিস সাহিত্যিকের চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন। কোভিড পরবর্তী অসুস্থতাই কাবু করেছিলেন তাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিলো তার। এছাড়াও মাল্টি অর্গান ফেলিওরও হ্রাস করেছিলো তাকে। মূত্রথলীতেও দেখা দিয়েছিলো সংক্রমণ। সংক্রমণের ধাক্কায় দূর্বল হয়েছিলেন প্রবীণ সাহিত্যিক। বার্ধক্যজনিত অসুখও আশঙ্কা বাড়িয়েছিলো।
১৯৩৬ সালে ২৯ জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন বুদ্ধদেব গুহ। পশ্চিমবঙ্গের আয়কর বিভাগের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য, আকাশবাণী কলকাতার অডিশন বোর্ডের সদস্যের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘জঙ্গলমহল’। এরপর থেকে ‘মাধুকরী’, ‘কোজাগর’, ‘অববাহিকা’, ‘বাবলি’ ‘হলুদ বসন্ত’, ‘একটু উষ্ণতার জন্য’,’কুমুদিনী’, খেলা যখন — একের পর এক উপন্যাস উপহার দিয়েছেন পাঠকদের।
কিশোর সাহিত্যেও ছিলো অবাধ বিচরণ। তার সৃষ্ট ‘ঋজুদা’ বা ‘ঋভু’র মতো চরিত্র আকৃষ্ট করে রেখেছে কয়েক প্রজন্মের বহু কিশোর-কিশোরীর মনকে। বুদ্ধদেব গুহ খুব সুন্দর ছবিও আঁকতেন। নিজের লেখা একাধিক বইয়ের প্রচ্ছদ তিনি নিজেই এঁকেছেন। গায়ক হিসেবেও তিনি জনপ্রিয়তা পেয়ে ছিলেন।