বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি ছিল, সত্য অচেনা

একুশের কন্ঠ ডেস্ক : চোখ আছে, দৃষ্টিশক্তিও আছে—পৃথিবীর আলো-বাতাস, প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানুষের জীবনযাপন সবই দেখা যায়। অথচ সেই চোখ দিয়ে যদি মানুষ সত্যকে চিনতে না পারে, স্রষ্টার নিদর্শন উপলব্ধি না করে এবং জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে যায়, তাহলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে? পবিত্র কোরআনে কেয়ামতের দিনের এমন এক পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রত্যেক মানুষকে আত্মসমালোচনার মুখোমুখি করে।
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, যারা আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাঁর নির্দেশনা উপেক্ষা করে এবং তাঁর নিদর্শন ভুলে জীবন পরিচালনা করে, কেয়ামতের দিন তাদের অন্ধ অবস্থায় উঠানো হবে। বিষয়টি কেবল দৃষ্টিশক্তি হারানোর বর্ণনা নয়; বরং দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর হেদায়েতকে অবহেলা করার পরিণতি সম্পর্কেও গভীর সতর্কবার্তা।
পবিত্র কোরআনের সূরা ত্ব-হার ১২৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকুচিত এবং কেয়ামতের দিন তাকে অন্ধ অবস্থায় উঠানো হবে।
এরপর ১২৫ নম্বর আয়াতে সেই ব্যক্তির প্রশ্নের কথা বলা হয়েছে—হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ছিলাম।
জবাবে ১২৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে আল্লাহর নিদর্শন তাদের কাছে এসেছিল, কিন্তু তারা সেগুলো ভুলে গিয়েছিল। আজ তাদেরও সেভাবেই পরিত্যক্ত রাখা হবে।
এই বর্ণনার মধ্যে রয়েছে মানুষের জন্য এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসা। আমরা প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা দেখি, জীবনের নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হই, কিন্তু সেসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি কতটুকু? অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ না করা, সত্য জেনেও তা এড়িয়ে চলা এবং আল্লাহর নির্দেশনার পরিবর্তে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা—এসব বিষয় মানুষকে আত্মসমালোচনার দিকে আহ্বান করে।
ইসলামি দৃষ্টিতে প্রকৃত সফলতা শুধু পার্থিব দৃষ্টিশক্তি কিংবা সম্পদের অধিকারী হওয়া নয়; বরং সত্যকে চেনা, সঠিক পথে চলা এবং পরকালের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
কোরআনের এই সতর্কবার্তা তাই শুধু মৃত্যুর পরের জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না, বরং জীবিত অবস্থায় নিজের জীবনকে সংশোধনেরও আহ্বান জানায়। কারণ দুনিয়ার আলো একদিন নিভে যাবে, কিন্তু মানুষের কর্মের হিসাব থেকে যাবে।
কোরআনের শিক্ষা স্পষ্ট—চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখা যথেষ্ট নয়, সত্যকে চিনতে হলে অন্তরের দৃষ্টিও জাগ্রত রাখতে হবে।
তথ্যসূত্র: পবিত্র আল-কোরআন, সূরা ত্ব-হা, আয়াত ১২৪–১২৬।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com