রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

তেল আবিবে যুদ্ধবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১২: উত্তাল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
গাজায় চলমান সামরিক অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের রাজপথ। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারে আয়োজিত এক বিশাল যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ থেকে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। খবর: সিএনএন।

আন্দোলনের পরিধি ও জনসমর্থন
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অন্যতম আন্দোলনের সমন্বয়ক ও আইনের ছাত্র ইতমার গ্রিনবার্গ। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মধ্যে শনিবারের জমায়েতটি ছিল এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ। প্রায় ১,২০০ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, শুরুতে মাত্র ২০ জন নিয়ে এই যাত্রা শুরু হলেও এখন সাধারণ মানুষের সমর্থন কয়েক গুণ বেড়েছে। গ্রিনবার্গের মতে, আগে কেবল কট্টর বামপন্থীরা যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও এখন উদারপন্থী ইহুদিবাদীরাও রাজপথে নামতে শুরু করেছেন।

পুলিশের ‘সহিংস’ আচরণ ও আন্দোলনকারীদের অবস্থান
বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের বিরুদ্ধে চরম সহিংস আচরণের অভিযোগ তুলেছেন অংশগ্রহণকারীরা। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যেই সোচ্চার হয়েছেন। দমন-পীড়ন চললেও আগামীতে আরও বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেল আবিবের এই বিক্ষোভ নেতানিয়াহু সরকারের জন্য এক কঠিন বার্তা। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, রিজার্ভ সৈন্যদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং জিম্মিদের ফিরে না আসা- সব মিলিয়ে সাধারণ ইসরায়েলিদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। এতদিন যুদ্ধ প্রশ্নে ইসরায়েলি সমাজ এককাট্টা থাকলেও এখন সেখানে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিচ্ছে, যা আগাম নির্বাচনের দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ এই বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে। হোয়াইট হাউস ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যুদ্ধবিরতির চাপের মুখে নিজের দেশের নাগরিকদের এই অবস্থান তেল আবিবের ‘যৌক্তিকতা’কে দুর্বল করে দিচ্ছে। পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের বাধা ও গ্রেফতারের বিষয়টি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজর কেড়েছে। এটি বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে নতুন করে সংকটের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com