শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

তারেক-জোবাইদা মামলার রায় ২৬ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ই-কণ্ঠ অনলাইন:: বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান আইনের দৃষ্টিতে পলাতক কিনা এবং তাদের পক্ষে আইনজীবী শুনানি করতে পারবে কিনা- এ বিষয়ে আগামী ২৬ জুন রায় দেবে হাইকোর্ট।

রোববার (১৯ জুন) এ বিষয় শুনানি শেষে ২৬ জুন রায়ের জন্য দিন ঠিক করেছেন বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মোঃ ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানের রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুলের শুনানি শেষে আদালত এদিন রায়ের জন্য রেখেছেন।

আদালতে সকালে তারেক-জোবাইদার পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সাথে ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, আব্দুল জব্বার ভুইয়া, গাজী মোঃ কামরুল ইসলাম সজল, জহিরুল ইসলাম সুমন, মাকসুদ উল্লাহ, মু: কাইয়ুম প্রমুখ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এ বিষয়ে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, তারেক রহমান দেশে থাকতে আইনের মধ্যে থেকেই জামিন নিয়েছেন। জামিনে থাকা অবস্থায় তিনি দেশের বাহিরে গেছেন। তার বিরুদ্ধে বহু মামলা পেন্ডিং আছে। আমি বলবো রাজনৈতিকভাবে এতো দিন পরে মামলাটি উত্থাপন করা হয়েছে। এতোদিন পর প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে তারেক রহমান পলাতক কিনা। সে বিষয়ে শুনানি হয়েছে। আমরা বলেছি, তারেক রহমান আপিল বিভাগ পর্যন্ত জামিনে আছেন। জামিনে থাকলে কখনো পলাতক হয় না। এদেশে কোনো উদারহণও নাই যে এক মামলায় সাজা হলে আরেক মামলা জামিনে থাকলে তিনি পলাতক। যে মামলায় জামিনে আছেন সে মামলায় তিনি পলাতক না। সুতরাং এ মামলায়ও তাকে পলাতক বলা যাবে না।

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, দেখুন আপিল বিভাগ বলে দিয়েছেন জোবাইদা রহমান পলাতক। কাজেই ওনার পক্ষে শুনানির করার কোনো সুযোগ নাই্। কিন্তু তারা বলছেন তারেক রহমান পলাতক না।

তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিস্কার। ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, এছাড়া একটি অর্থপাচার মামলাসহ তিনটি মামলায় তারেক রহমানের সাজা হয়েছে। এ তিন মামলায় তিনি পলাতক আছেন। তাকে খুঁজছে পুলিশ। এ অবস্থায় হাইকোর্টে যখন তিনি মামলা করেছে তখন হয়তো তিনি পলাতক ছিলেন না। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি তিনটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। এ অবস্থায় এই মামলায় তারপক্ষে শুনানি করার কোনো সুযোগ নাই।

২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত আয়ের বাইরে চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় করা মামলায় তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়। একই বছরে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী পৃথক রিট আবেদন করেন। রিটে জরুরি আইন ও এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। হাইকোর্ট রুল জারি করে স্থগিতাদেশ দেন। এরপর রিট মামলাগুলো ১৯ এপ্রিল কার্যতালিকায় আসে। পরে রুল শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com