বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট। একদিকে জ্বালানি স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটিতে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে রাজধানীর রান্নাঘর থেকে শুরু করে সিএনজি স্টেশন- সর্বত্রই বিরাজ করছে অস্থিরতা। লোডশেডিং আর গ্যাস সংকটের এই দ্বিমুখী যন্ত্রণায় শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থবিরতা, অন্ধকারে মফস্বল
বর্তমানে দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৪০টিরও বেশি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণ জনিত কারণে আরও ৩৫টির উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ফলে গতকাল দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; অনেক জেলায় এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ যাচ্ছে, আর ফিরতে সময় নিচ্ছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা।
পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, কয়লা সংকটে এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ এবং আরএনপিএল কম লোডে চলছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কয়লা আমদানি হলে ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যয় সাশ্রয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে সক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ নেওয়ায় ঘাটতি আরও প্রকট হচ্ছে।
বিভাগীয় শহরগুলোর চিত্র:
চট্টগ্রাম: এই অঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১০-১২টি সচল থাকায় দিনভর দফায় দফায় লোডশেডিং চলছে।
রংপুর: জ্বালানি ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ। সচল কেন্দ্রগুলো মাত্র ২০-৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে।
বগুড়া: দিনে ৫ থেকে ৬ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। একটানা ২-৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
জ্বলছে না চুলা, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি
বিদ্যুতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাসের তীব্র সংকট। গতকাল একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (FSRU) কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ ৪০০ এমএমসিএফডি কমে যায়। তিতাস গ্যাস এলাকায় এমনিতে ৪শ মিলিয়নের ঘাটতি থাকলেও গতকাল তা আরও প্রকট হয়। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আজিমপুর ও বাড্ডার অনেক বাসাবাড়িতে দুপুরের চুলাই জ্বলেনি।
গ্যাসের চাপ কম থাকায় রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, দুপুর নাগাদ ত্রুটি মেরামত করা হয়েছে এবং দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
চরম বিপাকে পরীক্ষার্থী ও শিল্প খাত
চলমান সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। লোডশেডিংয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।