শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

চিরিরবন্দরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
প্রায় এক বছর আগে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য টাকা দিলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হতে পারেনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের উত্তর পলাশবাড়ি মাওলানা পাড়া গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবার। একটি দালাল চক্র বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে ওইসব পরিবারের নিকট হতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের মাওলানা পাড়া গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবারের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে মাওলানা পাড়া গ্রামের মৃত বজলার রহমানের দুই পূত্র মইনুল হক ও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম মুক্তা এবং তাদের দুই সহযোগী মোস্তাফা ও জাবেদ আলী প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা বিভিন্ন অযুহাতে দফায় দফায় হাতিয়ে নেয়। মাওলানা পাড়া গ্রামের জিয়ারুল হক বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য খুব কষ্ট করে ১ হাজার টাকা দেই পরে আরেক দফায় আরো ১ হাজার টাকা মইনুল ইসলামরে সহযোগি মোস্তফার হাতে। কিন্তু প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। এখন টাকা ফেরৎ চেয়েও পাচ্ছি না। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার গরু ছাগল বিক্রি ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকেও টাকা উত্তোলন করেছে। একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, মাহমুদা খাতুন, মোতাহারুল ইসলাম, সিফাত শাহ্, আব্দুর রহিম, তরিকুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ, রিয়াজুল ইসলাম, মাছুম, আবু-বক্কর, দুলাল, জয়নুল ইসলাম, আজাহার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আরমান হোসেন, মকবুল হোসেন, ফেরদৌস আলম, তুহিন ও মান্নুসহ ১৫ থেকে ২০ জন বলেন, বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কষ্টে জমানো টাকা দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মইনুল হকের সাথে কথা হলে তিনি টাকা নেয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন ,পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আমাদের হেনস্তা করতে কয়েকজন এই অভিযোগ দিয়েছে। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিরি-১ এর রাণীরবন্দর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো: আশরাফুল হক বলেন, কোন দালাল চক্রের হাতে পড়ে বিদ্যুৎ দেয়ার নাম করে গ্রামের নিরীহ কোন মানুষ যাতে টাকা না দেয় সে জন্য আমরা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাইকিং করে সর্তক করে দিয়েছি। এলাকাবাসীরা দালালের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে থাকলে অফিস এটার সঙ্গে জড়িত নয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: গোলাম রব্বানী জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তের জন্য থানা অফিসার ইনচার্জকে দায়িত্ব দিয়েছি। তবে টাকা নেয়ার বিষয়টি প্রমানিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রায়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। চিরিরবন্দর অফিসার ইনচার্জ মো: হারেসুল ইসলাম এর সাথে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়ে তদন্ত চলমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com