সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক::
চলচ্চিত্রে অভিনয়ে মানুষকে হাসিয়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা আবদুস সামাদ চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
আজ শনিবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
আবদুস সামাদ ‘টেলি সামাদ’ হিসেবেই চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন; টেলিভিশন থেকে চলচ্চিত্রে পা রাখায় তার এই নাম হয়ে যায়, যা তিনি নিজেও আর বদলাননি।
বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সামাদ; শুক্রবার অবস্থা গুরুতর হলে তাকে নেওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে।
শনিবার দুপুর দেড়টায় চিকিৎসক এই অভিনেতার মৃত্যু ঘোষণা করেন বলে হাসপাতালে যোগাযোগ করে জানা যায়।
গত ডিসেম্বর মাসে বুকে ইনফেকশন নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন টেলি সামাদ। তখন আইসিইউতেও ছিলেন কিছু দিন।
টেলি সামাদকে এর আগে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে আসার পর অক্টোবর ও নভেম্বরে দুই দফা স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে।
অসুস্থ টেলি সামাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে তার চিকিৎসায় উদ্যোগী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে এই অভিনেতার হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।
মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকন্ঠ নয়াগাঁও এলাকার সন্তান সামাদ। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা সামাদ তার বড়ভাই চারুশিল্পী আব্দুল হাইকে অনুসরণ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়।
১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন সামাদ। গত চার দশকে ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিরো ডিগ্রী’।
কমেডিয়ান হিসেবে দর্শক টেলি সামাদকে চিনলেও প্রায় ৪০টির বেশি চলচ্চিত্রে গানও গেয়েছেন টেলি সামাদ। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনাও করেন তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ অভিনেতা টেলি সামাদের চাচা।