রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন
কুমিল্লা প্রতিনিধি, ডেস্ক রিপোর্ট ॥ অনলাইন সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদে রূপ নিল কুমিল্লায়। নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাস দুমড়েমুচড়ে গেছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ৩ শিশু ও ২ নারীসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘ওয়ান আপ’ ট্রেনটি পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামমুখী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সাথে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে থামে। বর্তমানে বাসের ধ্বংসাবশেষ ট্রেনের ইঞ্জিনে আটকে আছে।
উদ্ধার অভিযান ও হতাহত
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। হতাহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি ১০ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ
দুর্ঘটনার জন্য রেলগেটের সিগন্যাল ম্যানের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয় ও ট্রেনের যাত্রীরা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ক্রসিংয়ে সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ একাধিকবার ফোন করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের বক্তব্য
কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত ৩টার দিকে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল উদ্ধার কাজে নামে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিচয়হীন মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।