শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের শোক সভায় আসার পথে নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করাসহ দোকানপাট, বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে কোটচাঁদপুর রোডস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মান্নান বলেন, গত ১৬ আগস্ট বিকেলে শহরের মেইন বাসটার্মিনালে শোক সভার আয়োজন করা হয়। শোক সভাটি জনসমুদ্রে পরিনত হয়। সেই শোক সভায় আসার পথে সন্ত্রাসীরা তার দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের হামলায় জামাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সেলিম, ইসরাইল, আনারুল, রবি ও নজরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে মারপিট করে আহত করে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, শোক সভায় অংশগ্রহণ করায় ভিজিএফ কার্ডধারীদের চাল দেয়া হয়নি। প্রকৃত দরিদ্র মানুষকে বাদ দিয়ে বৈষম্যমূলকভাবে এই চাল দেয়া হয়েছে। উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আমান উল্লাহ, শমসের আলী, জাহাঙ্গীর আলী, লিটন, চাঁদ আলীসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকজনকে শোক সভায় আসার কারনে চাল দেয়া হয়নি। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, শোক সভাটি বানচাল করার জন্য একই দিন একই সময়ে ভুষণ স্কুল মাঠসহ বিভিন্ন মাঠে খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। নেতাকর্মীদের পথে পথে বাঁধা প্রদানসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি পৌর সভা অডিটরিয়ামে জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভা চলাকালে হামলা চালিয়ে কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ত্যাগী নেতা আনন্দ মোহন ঘোষকে হত্যা করা হয়। সেই মামলার আসামিরা পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে ঘুরছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জামাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তাকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। প্রাণ ভয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জমান অদু অভিযোগ করে বলেন, আমরা অনেক মিথ্যা হামলা মামলার শিকার হয়েছি। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকেসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, কে এই র্যার রসুল? আমি ৮৫ সাল থেকে সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২০১৩ সালে সে নাশকতার মামলায় জেল খেটেছে। গোলাম রসুল আওয়ামীলীগের কেউ নয়। সে র্যাবের সোর্স।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল হোসেন, আ’লীগ নেতা ও সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জমান অদু, ফুরসন্ধি ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, মালিয়াট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান খান, নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন, মাস্টার মনোয়ার হোসেন বাদশা, উপজেলা ছাত্র লীগের সাধারন সম্পাদক কাজী রিপন প্রমুখ।