রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ১৯, আটক ১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরো ২৫ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্কের (চোরবাগান) দুর্গাপূজার মণ্ডপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ মণ্ডপে ভিড় করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

এদিন সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মণ্ডপের বের হওয়ার পথে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আহত সবাইকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মণ্ডপের প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথ অত্যন্ত সরু ছিল এবং ওই এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। এছাড়া ঘটনার সময় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।

দুর্ঘটনার পর মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কলকাতার টালা প্রত্যয়, আলিপুর সর্বজনীন, চেতলা সম্মিলনী ও চোরবাগান সর্বজনীন- এই চারটি পূজামণ্ডপের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য মণ্ডপেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ পূজা আয়োজকদের কয়েকজনসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং আহতদের খোঁজখবর নেন।

পরিস্থিতি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আয়োজক কমিটি, পুলিশ কিংবা বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী- যারই গাফিলতি প্রমাণিত হবে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে কলকাতা হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠনের জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের বড় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়া নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আহতদের উন্নত চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

উভয় নেতাই এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com