রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণের শুরুতেই তিনি ওসমান হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই অমর সৈনিককে মহান রাব্বুল আলামিন শহিদ হিসেবে কবুল করুন এই দোয়া করি। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। তার প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে অধ্যাপক ড. ইউনূস জানান, শহিদ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে এবং এদিন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সে সময় রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সরকারিভাবে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
সবশেষ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওসমান হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। বর্তমানে মরদেহটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আজ শনিবার জোহরের নামাজের পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই সম্মুখযোদ্ধাকে দাফন করা হবে।