রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
২৯তম দিনে গড়িয়েছে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত। মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে এবার সরাসরি তেহরানের পক্ষে যুদ্ধের ময়দানে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর হামলার মাত্রা আরও বাড়ায়, তবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘সুয়েজ খাল’ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে হুথি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর হামলা জোরালো হলে হুথিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
নৌপথ ও বিশ্ব বাণিজ্যে বিপর্যয়ের শঙ্কা কাতারভিত্তিক দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেন, হুথিদের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্যের দ্বিতীয় প্রধান নৌপথকে চরম হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে বিশ্ববাসী একই সাথে ‘হরমুজ প্রণালী’ ও ‘সুয়েজ খাল’- এই দুটি প্রধান চোকপয়েন্ট বা নৌ-বাধার সম্মুখীন হবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ত্রাহি দশা বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন থেকে হুথিদের নিরবচ্ছিন্ন হামলা ইসরায়েলের ‘অভেদ্য’ বলে পরিচিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে। সম্প্রতি হিজবুল্লাহ ও ইরানের মিসাইলগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন যদি নতুন করে ইয়েমেনি মিসাইল মোকাবিলা করতে হয়, তবে তেল আবিবের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
যুদ্ধের নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ অধ্যাপক এলমাসরি একটি ভিন্নধর্মী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েল হয়তো এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে স্বাগত জানাতে পারে। তারা চায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে যেন এখনই যুদ্ধ থামিয়ে না দেন। কারণ ইসরায়েলের মূল লক্ষ্যগুলো এখনো অর্জিত হয়নি।
অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য ও জ্বালানি সংকট উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরান। গত ২৯ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইতোমধ্যে তেহরান ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও হাহাকার শুরু হয়েছে।