বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: কার্তিকের শুরু থেকেই কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা, সেই সাথে চারপাশজুড়ে বাড়ছে কুয়াশার দাপট। বিশেষ করে দেশের গ্রামীণ জনপদে শেষ রাতে এখন নিয়মিতই মিলছে শীতের আমেজ। এর মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে জানুয়ারি-এই তিন মাসে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। যার মধ্যে দুই থেকে তিনটি রূপ নিতে পারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে।
গতকাল বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। শীতের তীব্রতার পাশাপাশি কুয়াশা, তাপমাত্রা এবং বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে এই পূর্বাভাসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী তিন মাসে সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে এর ফলে শীতের তীব্রতা কমবে না। নির্দিষ্ট সময়ে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হবে। বিশেষ করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতের অনুভূতি ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি এই তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে লঘুচাপ তৈরি হলেই তা ঘূর্ণিঝড় হবে এমন নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. মমিনুল ইসলাম জানান, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদনদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসবে, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দেবে।
এদিকে শীতের এই আমেজ এবং ঘন কুয়াশার প্রভাবে জনজীবনে ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শৈত্যপ্রবাহের সময় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের ঠান্ডাজনিত সমস্যার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই শীতের শুরুতেই সবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
আবহাওয়ার এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের ওপর নজর রেখে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী সতর্কবার্তা ও নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।