সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন

আত্রাই প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

একেএম কামাল উদ্দিন টগর, আত্রাই প্রতিনিধি॥ নওগাঁর আত্রাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে প্রাণী চিকিৎসা সেবা। অফিসে প্রয়োজনীয় উপকরণ, ওষধ, চিকিৎসক ও জনবল সংকটে থাকায় উপজেলার পশু পালনকারী হাজারো পরিবার সরকারী সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের প্রতিটি উপজেলার সাবেক হাসপাতালকে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর নামে নাম করন করে এর মাধ্যমে গবাদী পশু ও খামারীদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান, ওষধ বিতরণ সহ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন। সরকারের লক্ষও উদ্যেশ্য হচ্ছে, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের গবাদী পশু ও হাঁস-মুরগী উৎপাদন করা। যাতে দেশে ডিম,দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করা যায়। কিন্তু প্রযোজনীয় উপকরণ জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসকের অভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে হাঁস-মুরগী, গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, কবুতরসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর মালিকরা।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৯০টি দুগ্ধ গরুর খামার, গরু মোটা তাজা করন ৬৫৪ টি ছাগলের খামার, ২২টি ভেড়ার খামার, ২৬টি লেয়ার মুরগীর খামার ৬৫টি ব্রয়লার মুরগীর খামার, কবুতর খামার ৪০টি, ৩০টি হাঁসের খামার রয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় মোট গরু ৬২হাজার ৩২১ খামারে ৩০৬৫, মহিষ ২হাজার, ছাগল ৩১হাজার ৪শ২১টি ভেড়া ৫হাজার মুরগী ৩লাখ ৫৬ হাজার, হাঁস ২৪ হাজার ৭শতসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু-পাখি রয়েছে আরও প্রায় লক্ষাধিক।

আরও জানা যায়, উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে ১১টি কর্মকর্তা-কর্মচারী পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি পদে কর্মকর্তা কর্মচারী থাকলেও ৪টি পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ পদ ভিএস শূন্য থাকায় ওকৃত্রিম প্রজনন সহকারী পদ দীর্ঘ দিন থেকে শূন্য থাকায় মাত্র ৩জন কর্মকর্তা–কর্মচারী দিয়ে হ য ব র ল অবস্থায় চলছে অফিসের কার্যক্রম। মালিপুকুর গ্রামের মোহম্মাদ আলী, সাহেবগঞ্জ গ্রামের আলহাজ মোফাজ্জল হোসেন, মধুগুরনই গ্রামের আলহাজ্ব ইয়াকুব আলী মন্ডলসহ কয়েকজন গবাদী খামার মালিকরা জানান শুধু মাত্র একজন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা উপজেলার বিশাল এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে।

আত্রাই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা হাটকালু পাড়া ইউনিয়নের চকসিমলা গ্রামের আব্দুল জব্বার ও বিশা ইউনিয়নের খরসতি গ্রামেন নওজেস আলী জানান, সময় মত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় অনেক গবাদী পশু-পাখি চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। এজন্য গবাদী পশুপালনকারীকে ক্ষতির মূখে পড়তে হয়।অনেক সময় দেখা যায়, ডাক্তার বাড়িতে নিয়ে পৌঁছানোর আগেই অনেক পশু মারা যায়। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে সব সময় গবাদী পশু পাখি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।এ সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ নিতে হয়।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রুহুল আমিন আল-ফারুক জানান,উপজেলার বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির প্রাণী সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিপুল পরিমান গবাদী পশু ও হাঁস-মুরগীর ছোট-বড় ও মাঝারী আকারে খামারে প্রাণীদের প্রতিষেধক টিকা, রোগাক্রান্ত প্রাণীর প্রাথমিক চিকিৎসা একজন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার পক্ষে মানুষের দৌড়গড়ায় পৌঁছানো দুঃসাধ্য ব্যাপার। তবে সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো জানান,উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে ১১টি কর্মকর্তা-কর্মচারী পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি পদে কর্মকর্তা কর্মচারী থাকলেও ৪টি পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ পদ ভিএস পদটিও শূন্য রয়েছে। এই শূন্য চারটি পদের তালিকা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাটানো হয়েছে।

এ ছাড়া অফিসে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। ফিল্ড অফিসার না থাকায় উপজেলা ইউনিয়ন গুলোতে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গবাদী পশু ও হাঁস-মুরগী চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com