মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

স্থানীয় নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধ: কঠোর আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত, জরিমানের অঙ্ক বৃদ্ধি

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা॥
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ- অর্থাৎ স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনগুলোতেও পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর একটি নতুন খসড়া আচরণবিধি অনুমোদন দিয়ে চূড়ান্ত ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি গেজেট আকারে জারি করা হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) বিষযটি নিশ্চিত করে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন বিধিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল কাঠামো প্রায় একই রেখে কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন আনা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে করার আইন পাস হওয়ার পরই ২০১৬ সালের পুরানো বিধিমালা সংশোধন করে আধুনিক এই খসড়া তৈরি করা হয়। সাধারণ মানুষের মতামত পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত রূপ পায়।

প্রচার সামগ্রী ও আকারের নিয়মকানুন
পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও অন্যান্য প্রচার সামগ্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আকার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের প্রচার সামগ্রী অবশ্যই সাদাকালো হতে হবে এবং কোনো প্রার্থীর প্রতীক ৬ ফুটের (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা) বেশি বড় করা যাবে না।

ব্যানার: সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট।

লিফলেট ও হ্যান্ডবিল: এ-ফোর (A4) সাইজ।

ফেস্টুন: ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি।

বিলবোর্ড (নতুন সংযোজন): সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট।

প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ
এবারই প্রথম স্থানীয় নির্বাচনে নির্ধারিত সীমায় বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে:

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ১টি করে।

উপজেলা পরিষদ: পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি।

জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় ১টি করে।

ডিজিটাল প্রচার ও এআই (AI) নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে, তবে এর যাবতীয় খরচ প্রার্থীর অফিশিয়াল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর যেকোনো ধরনের অপব্যবহার বা অসদুপায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিধি ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা
প্রচারে নিষেধাজ্ঞা: সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে থাকা মেয়র, চেয়ারম্যান, প্রশাসক বা অন্য কোনো প্রতিনিধিরা নিজ বা অন্যের নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

মাইক ব্যবহার: দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে। তবে একাধিক মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না।

পরিবেশ রক্ষা ও অন্যান্য: ফেস্টুন বা হ্যান্ডবিলে কোনো ধরনের পলিথিন বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া প্রচারে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু রাখা যাবে না।

কঠোর শাস্তি ও প্রার্থিতা বাতিল
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধিতে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং পূর্বের ১০ হাজার টাকার স্থলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর অপরাধে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর বিধানও রাখা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com