বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

সেবা না পেয়ে জিজ্ঞেস করায় কৃষকের সাথে অশোভন আচরণ করলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা !

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘কৃষিখাতকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছেন। সেই লক্ষ্যে কৃষকদের জন্য নানা সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই তো কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে ও সেবার মান বৃদ্ধি করতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ব্লক পর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অল্প সময়ের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও কৃষি বিষয়ক পরামর্শ বা সেবা প্রদানের কথা রয়েছে।

ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব :

রাজধানীর পাশে ঢাকার নবাবগঞ্জে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ আসে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ নিয়ে মাঠে নামে ‘একুশের কণ্ঠের প্রতিবেদক। যার বেশকিছু অভিযোগের সত্যতা মিলে৷

নবাবগঞ্জের চুড়াইন ইউনিয়নের ‘গোবিন্দপুর ব্লকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কর্মকর্তা হাফিজা আক্তার৷ তাঁর বিরুদ্ধেও ছিল বিস্তার অভিযোগ। নিয়মিত মাঠে থাকেন না৷ কৃষকরাও পর্যাপ্ত কৃষি বিষয়ক সেবা বা পরামর্শ পান না। এছাড়া কৃষকদের সাথে আচরণ খারাপ করেন বলেও অভিযোগ ছিল৷ সেই অভিযোগের সত্যতা জানতে সরেজমিনে যান এই প্রতিবেদক৷
‘ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাফিজার মুঠোফোনে কৃষক পরিচয়ে এই প্রতিবেদক কল করেন৷ একপ্রান্ত থেকে সাংবাদিক কথা বললে অপরপ্রান্ত থেকে হাফিজা আক্তার নিশ্চিত করেন তিনি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

পরামর্শ ও ধানের জমি দেখানোর জন্য ২১ এপ্রিল বেলা ১ টার দিকে ধানের সমস্যা নিয়ে কথা হয় তাঁর সাথে৷ কিন্তু সেদিন তিনি মুঠোফোনে জানান, ব্লকে(গোবিন্দপুর) আছেন৷ কিন্তু তাঁকে পাশেই গোবিন্দপুর দক্ষিণ হাটি আসতে বললে তিনি মুহূর্তেই জানান, আমি দূরে আছি। ‘‘কোথায় আছেন ম্যাডাম, তাহলে ধানের ছবি তুলে নিয়ে আমি ওখানেই আসি, আমার তো জরুরি প্রয়োজন। ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বললে তিনি জানান, “আজ না কাল আসেন৷ বার বার আকুতিমিনতি করলেও তিনি বার বার অপরপ্রান্ত থেকে জানান, ‘আমাকে আজকে পাবেন না কালকেই আসেন৷ ‘সকালেই তো পাবেন৷

পরের দিন ঠিক সকাল ৯:১০ মিনিটে হাফিজা আক্তার কৃষককে(সাংবাদিক) কল করেন। তখন এই প্রতিবেদক বলেন, আপনাকে ম্যাডাম না পেয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের দিয়ে কীটনাশক লিখে জমিতে দিয়েছি৷ আপনাকে তো পেলাম না৷ ‘আপনিও বললেন দূরে আছি,। ছবি তুলে ধান গাছ দেখাতে আসতে চাইলাম তবুও না করলেন। একপর্যায়ে যখন কৃষক পরিচয়ে(সাংবাদিক) বলেন, ‘আপনাকে তো সরকার বেতন দেয়৷ পরিপূর্ণ কাজ তো না করেই বেতন নিচ্ছেন৷  ‘আমাদের(কৃষকদের) যে সেবা দেওয়ার কথা তা পর্যাপ্ত পাই না৷ আপনাকেও নিয়মিত মাঠে পাই না”৷ পরিষদে গেলেও ঘুরে আসি”। এ কথা বলার সঙে সঙে একপর্যায়ে উপ-সহকারী এই কর্মকর্তা হাফিজা আক্তার কৃষক(প্রতিবেদককে) ধমক দিয়ে কথা বলতে শুরু করেন৷ “ তখন তিনি বলে উঠেন, আপনি তো সাধারণ মানুষ৷ আপনি এত কথা বলেন কেন৷ “ফাইজলামি কথা বলেন”। বার বার যখন বলছিলাম আপনাদের ঠিকমতো পাই না৷ পরিষদে গেলেও পাই না, গোবিন্দপুর বাজার বা মাঠে গেলেও পাই না৷ ‘এই প্রশ্ন করার পর তিনি অরপ্রান্ত থেকে জানান, “এত কৃষক দেখেছি, আপনার মত এমন তর্ক করা কৃষক দেখিনি, অভদ্র”। এটি বলার পর আরও বিভিন্ন ভাষায় অশোভন আচরণ করেন এই হাফিজা আক্তার।

পরে৷ কৃষক হিসেবে যখন বলি আমি পরিষদে গিয়েও দুদিন পাইনি ম্যাডাম৷ বলার সঙে সঙে ভয় দেখিয়ে মুঠোফোনে বলেন, “ আপনি আসেন আপনাকে উপজেলায় নিয়ে যাব। কি বলবেন ওখানে বইলেন” পরবর্তীতে কৃষক হিসেবে এই প্রতিবেদকও জানান, “ আপনার বড় স্যারের কাছে যাব। আপনার বিষয়ে অভিযোগ জানাবো৷ তখনও তিনি অপরপ্রান্ত থেকে জানান, “যান আপনি উপজেলায় গিয়ে বসে থাকেন৷

এই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নবাবগঞ্জের কৃষক জনতা৷ তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে কখনোই এমন আচরণ আশা করে না কৃষক৷ যে অশোভন আচরণ করেছে তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই৷ তিনি এমন আচরণ অনেক কৃষকের সাথে করে থাকেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷ না হলে চুড়াইন ইউনিয়নসহ নবাবগঞ্জের কৃষক সমাজ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর প্রতিবাদ জানাবে৷

এদিকে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এ বলা আছে কোন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী অসদাচরণ বা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রম করলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসমা জাহান বলেন, ‘ ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে কারণদর্শানোর নোটিশ(শোকজ) দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর(ডিডি) স্যারকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com