বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা সমাজসেবা অফিস নথির কাগজ-কলমের মুসলিমা খাতুন বয়স্কভাতা গ্রহণ করে দীর্ঘদিন। তার বহি: নম্বর হাকিম/ ৫২০ হিসাব নং-৪৩৬। তার বয়স্কভাতা পরিশোধ বহিতে জাতীয় পরিচিতি নম্বর-৪৪১৮০৫০৮৫২৪৬৭ অত্রসাথ সংযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের আইডি নম্বর- ৪৪১৮০৫০৮৫২৪২০, জন্মতারিখ ৫ অক্টোবর ১৯৫০, সাং-জালশুকা, খুলুমবাড়িয়া দেখানো হয়েছে। দু’প্রকার আইডি ছাড়াও অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে প্রকৃতপক্ষে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের আইডি নং- ৪৪০১৪৬৮৫২৪২০ জন্মতারিখ-০৫/১০/১৯৮২ সে মোতাবেক বয়স প্রায় ৩৫ বছর। মুসলিমা জালশুকা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলী’র স্ত্রী, জাহাঙ্গীর ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারীতে জন্মগ্রহণ করে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ খুলুমবাড়িয়া কৃষি ব্যাংক শাখার চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলমের সাথে গোপন আতাত করে ভাতা বহি সংক্রান্তে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ হাতানোর অভিযোগ উঠেছে। এরই সূত্র ধরে খুলুমবাড়ীয়া কৃষি ব্যাংকের পিয়ন জাহাঙ্গীর আলী ঘুষ দিয়ে সুন্দরী নামে একজন ভাতাভোগীর মৃত্যু হলে তাঁর স্থলে জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী মুসলিমা খাতুনের নামে বয়স্কভাতা করেছে। এখানেই শেষ নয়, সুচতুর জাহাঙ্গীর সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ডাক্তারী পরিক্ষায় উত্তীর্ণ ছাড়াই পুত্র শুভ হোসেনের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা’র কার্ড লুফে নিয়েছে, বহি নং- হাকিম/ ১৭১২, কার্ড নং-১১৬।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুসলিমা খাতুনের নামে বয়স্কভাতার কার্ড আছে কেউ জানেইনা এমনকি বয়স না হওয়ার ফাঁদে আটকে লোকলজ্জা এড়াতে মুসলিমা তার স্বামীকে দিয়ে কৌশলে উক্ত টাকা উত্তোলন করে থাকে এবং ব্যাংকের হিসাব বহি সংক্রান্ত বই দুটির যাবতীয় কার্যক্রম সে জাহাঙ্গীর নিজ দায়িত্বেই সমাধান করে।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জিকু জানান, শুধু বয়স্কভাতা নয় সমাজসেবা অফিস নিয়ন্ত্রিত সব কার্ডের যাবতীয় তথ্য-কাগজপত্র প্রাথমিক যাচাই-বাছাই পরবর্তিতে চুড়ান্তভাবে কর্মকর্তা নিজেই সম্পন্ন করেন। মুসলিমা খাতুনের বয়স্কভাতা ও তার ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের বিষয়ে অভিযোগ ওঠায় নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৭নং হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, সমাজসেবা অফিসে ভাতাভোগীদের কার্ড নিবিড়ভাবে খোঁজ নিয়ে এরকম অনেক মুসলিমাদের তথ্য বেরিয়ে আসবে।
ঘুষ নিয়ে বয়স্কভাতার কার্ড করার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের যাচাই বাছাই করে যে সকল কাগজপত্র অফিসে পাঠানো হয় সেগুলোই অনুমোদন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ব্যক্তি পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া ইস্যুকৃত বই দুটির সমস্ত তথ্যাদি অধিকতর তদন্ত করা হবে বলে মন্তব্য করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গণি বলেন, বিষয়টি দু:খজনক তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।