বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃঃ
জমি দখলে নিতে এক বর্গা চাষিকে চাঁদাবাজ করে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে নারাজি করে উচ্চ তদন্তের দাবি করে পুলিশ সুপার বরাবরে স্বাক্ষীদের আবেদন। ১২ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুপুরে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত স্বাক্ষীরা উচ্চতর তদন্ত দাবি করে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন করেছেন।
মামলার বিবরনে জানা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবদা গ্রামের আনার আলীর ছেলে বর্গাচাষি শহিদুল ইসলামের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ একই এলাকার দক্ষিণ গোবদা গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে মাদরাসা শিক্ষক খোরশেদ আলমের। এ জমি জবর দখলের অপচেষ্টা করলে কৃষক শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে আদালতে খোরশেদ আলম গংদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এরপর এ জমি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় ভাবে শালিস বৈঠক হলে সেখানে হাজির হন নি খোরশেদ আলম।
এ দিকে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অস্ত্র দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে উল্লেখ করে প্রতিপক্ষ শহিদুলসহ তিন জনের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৩/১৭ নং মামলাটি দায়ের করেন খোরশেদ আলম।
মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে আদিতমারী থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদিতমারী থানার উপ পরিদর্শক(এসআই) আনিছুজ্জামান স্বাক্ষীদের বরাত দিয়ে বাদির পক্ষে ৬ ফেব্রুয়ারী আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। যেখানে তিনি উল্লেখ করেন আসামীরা অস্ত্রের মুখে বাদির কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেছেন। যা স্বাক্ষী ও স্থানীয়রাও নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন দেখে চমকে উঠেন মামলার স্বাক্ষীরা। তাদের সাথে কথা না বলেই স্বাক্ষীদের মিথ্যা ও মনগড়া বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন নারাজি ও নিজেদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মামলাটি উচ্চতর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করে স্বাক্ষীরা লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের নিকট সোমবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই মামলার স্বাক্ষী নুর ইসলাম বলেন, পুলিশ স্বাক্ষীদের কাছে ঘটনার বিষয়ে কোন কিছু না জেনে মনগড়া প্রতিবেদন দিয়ে নিরাপরাধ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। তিনি উচ্চতর তদন্ত দাবি করেন।
মামলার বাদি খোরশেদ আলম জানান, কাগজপত্র থাকার পরেও জমি দখল না দেয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদিতমারী থানার উপ পরিদর্শক(এসআই) আনিছুজ্জামান জানান, মামলার স্বাক্ষীদের দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এর বাহিরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হরেশ^র রায় জানান, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যা পেয়েছেন, সে অনুযায়ীই তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম নাসির উদ্দিন জানান, ওই মামলার স্বাক্ষীদের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।